কালীঘাটে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চেম্বারে শশী পাঁজা! গোপন বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে দলবদলের জল্পনা!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবন থেকে মাত্র ৮০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ‘ঘোষ দস্তিদার ইনস্টিটিউট অফ ফার্টিলিটি রিসার্চ’-এ হঠাৎই হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা দাপুটে নেত্রী শশী পাঁজা। দীর্ঘক্ষণ দুই প্রাক্তন রাজনৈতিক সতীর্থের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়েছে বলে খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। পেশায় দুজনেই চিকিৎসক হলেও দীর্ঘদিন তাঁদের কাউকেই প্র্যাকটিস করতে দেখা যায় না। এই পরিস্থিতিতে কাকলির ক্লিনিকে শশীর এই হঠাৎ উপস্থিতি স্রেফ সাধারণ কোনো সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে মানতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহল। তবে কি তবে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন শশী পাঁজা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।

বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের বিস্ফোরক পোস্ট

রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে এই জল্পনাকে আরও উসকে দেন কাকলিপুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন, “আমাদের IVF সেন্টারে মায়ের সঙ্গে গোপনে বৈঠক হয়েছে প্রাক্তন দুই ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও ৩ জন সাংসদের সঙ্গে। যদিও তাঁদের কারও নাম এখনই প্রকাশ করতে পারব না।” বৈদ্যনাথের এই রহস্যজনক পোস্টের পরেই গুঞ্জন শুরু হয় যে, তবে কি তৃণমূলের অন্দরে বড় কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতে চলেছে? কার বা কাদের কথা ইঙ্গিত করলেন তিনি, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

কী বলছেন কুণাল ঘোষ?

এই জল্পনার মধ্যেই দলের পক্ষ থেকে সাফাই দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “ডাঃ শশী পাঁজাকে নিয়ে কোনো অপপ্রচারে বা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়বেন না। যতক্ষণ না তাঁর নিজের মুখ থেকে বা কোনো দায়িত্বশীল নেতার মুখ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু শুনছেন, ততক্ষণ জল্পনা বিশ্বাস করবেন না। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক এবং নিজের সেই পেশাগত কাজেই তিনি সেখানে গিয়েছেন। তাছাড়া ভোটের পর তিনি ছোট মেয়ের কাছেও কিছুদিন বাইরে ছিলেন। এও মনে রাখা দরকার, তিনি যে পরিবারের সদস্য এবং যে বাড়ির সঙ্গে যুক্ত, সেই পরিবারের মানুষটি তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই মমতাদির অন্যতম প্রধান সহযোগী।”

একসময়ের মহিলা ব্রিগেডের সমীকরণ

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহিলা ব্রিগেডের চার প্রধান স্তম্ভ ছিলেন— কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং শশী পাঁজা। এর মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বর্তমানে অন্য শিবিরে, চন্দ্রিমা ঋতব্রত শিবিরে এবং কৃষ্ণা চক্রবর্তী দল ছেড়েছেন। দীর্ঘদিনের এই সমীকরণে শেষ পর্যন্ত শ্যামপুকুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা নেত্রী শশী পাঁজা কী সিদ্ধান্ত নেন এবং এই রাজনৈতিক গুঞ্জন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।