ভোটের আগের রাতে থানায় চরম নাটক! পুলিশকে সোজা ধমক প্রশান্ত কিশোরের, হার নিশ্চিত জেনে কিসের ভয় বিজেপির?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হলেও এবার রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে ময়দানে নেমেছেন ভোটকুশলী থেকে রাজনীতিক হওয়া প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকে। বিহারের হেভিওয়েট বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সরাসরি ভোটে লড়ছেন তিনি। বিজেপি নেতা তথা সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের বিধায়ক পদ ইস্তফার কারণে খালি হওয়া এই আসনে উপনির্বাচনের ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, রাজনৈতিক মহলের নজর মূলত প্রশান্ত কিশোর এবং বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহার সরাসরি লড়াইয়ের দিকেই। আজ শুক্রবার এই কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

তবে ভোটগ্রহণ শুরুর ঠিক আগে গতকাল মধ্যরাতে পটনায় ঘটে গিয়েছে চরম নাটকীয় ঘটনা। বাঁকিপুর উপনির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিহার পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর বহু সমর্থককে বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলেন জন সুরাজ পার্টি (জেএসপি)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রার্থী প্রশান্ত কিশোর। এই অভিযোগের জেরে মাঝরাতে পাটনার জাক্কানপুর থানায় তীব্র উত্তেজনা ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রশান্ত কিশোরের সরাসরি অভিযোগ, শাসক দল বিজেপির প্রত্যক্ষ নির্দেশেই পুলিশ তাঁদের দলের অন্তত ১৬ জন কর্মী-সমর্থককে কোনও ধরনের সরকারি নথিভুক্তি বা কারণ দর্শানো ছাড়াই জোর করে আটক করেছে।

এই খবর পাওয়ার পরেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দলীয় কর্মীদের নিয়ে সোজা জাক্কানপুর থানায় গিয়ে হাজির হন পিকে। থানা চত্বর থেকে প্রকাশ্যে আসা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা জাক্কানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) ঋতুরাজ কুমার সিংহের সঙ্গে অত্যন্ত চড়া গলায় তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সংবাদসংস্থা এএনআই-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমার দলের আটক করা কর্মীদের যদি সামান্যতম ক্ষতি হয়, তবে জাক্কানপুর থানার এসএইচও ঋতুরাজ কুমার সিংহকে তাঁর চাকরি হারাতে হবে। বিষয়টি তিনিও খুব ভালোভাবেই জানেন।”

থানার বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত কিশোর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তিনি জানান, দলের আটক কর্মীদের ঠিক কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব এবং কোনও সদুউত্তর দিতে পারেনি। উলটে তাঁদের বিভিন্ন থানায় গোপনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পিকের। তাঁর দাবি, এই আটকের পিছনে কোনও বৈধ সরকারি নথি বা আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়নি। জন সুরাজ পার্টির প্রধানের মতে, আসন্ন উপনির্বাচনের ফলাফলে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে শাসক দল বিজেপি। আর সেই পরাজয় আটকাতেই পুলিশি প্রশাসনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে যথেচ্ছ ব্যবহার করছে তারা। পিকে আরও দাবি করেন, আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট থানার এসএইচও তাঁকে এবং তাঁর উপস্থিত সমর্থকদের সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এই সমস্ত পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি তোলা হবে।

প্রশান্ত কিশোরের মূল অভিযোগ, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর কর্মীদের সুপরিকল্পিতভাবে পুলিশি হেফাজতে আটকে রাখার নোংরা ফন্দি আঁটা হয়েছে। একে প্রশাসনিক পরিকাঠামোর চরম অপব্যবহার বলে দেগে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি এটিকে কোনও বৈধ গ্রেফতারি বলছি না। কারণ আমার কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলার নাম বা কোনো আইনি নথি নেই। তাঁরা এই জাক্কানপুর থানাতেই বন্দি রয়েছেন জানতে পেরে আমি এখানে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে আসার পর শুনছি, তাঁদের সকলের স্থান পরিবর্তন করে অন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখানকার এসএইচও পর্যন্ত অদ্ভুত অজুহাত দিয়ে দাবি করছেন যে, এই থানায় তাঁদের আটক করার কোনো ভূমিকা নেই, বরং ওপর মহলের নির্দেশেই সবটা ঘটেছে।”

প্রাক্তন সফল নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর তীব্র আক্রমণ শানিয়ে আরও বলেন, “এই গোটা বেআইনি আটকের ঘটনার নেপথ্যে যে শাসক দল বিজেপির সরাসরি হাত রয়েছে, তা আজ একেবারে সূর্যের মতো স্পষ্ট।” তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ওঁরা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন যে এই উপনির্বাচনে তাঁদের ভরাডুবি আসন্ন। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করেই সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত আটক রাখতে পারে। সেই আইনি ফাঁকফোকরকে কাজে লাগিয়েই আমার কিছু সমর্থককে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত সচেতনভাবে আটকে রাখার হীন পরিকল্পনা করা হয়েছে।”