LIC Housing Finance-এর ত্রৈমাসিক ফল প্রকাশের আগেই ধস! বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ কেন?

আজ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের মূল নজর রয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হাউজিং ফাইন্যান্স কোম্পানি এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্সের (LIC Housing Finance) ওপর। কোম্পানিটি চলতি আর্থিক বছরের জুন ত্রৈমাসিকের (April-June Quarter) আর্থিক ফলাফল আজই প্রকাশ করতে চলেছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ফল প্রকাশের আগেই শেয়ার বাজারে তীব্র বিক্রির জেরে কোম্পানির শেয়ারের দামে বড় ধস নেমেছে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (BSE) এই শেয়ারটি ২.৩৫ শতাংশ দুর্বল হয়ে ৫৪০.৬০ টাকায় নেমে এসেছে। এমনকি লেনদেনের এক পর্যায়ে এই শেয়ারটি ৩.০৪ শতাংশ পর্যন্ত পতন রেকর্ড করে ৫৩৬.৬০ টাকার সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল। নিচ থেকে কিছু বিনিয়োগকারী কেনার চেষ্টা করলেও সার্বিকভাবে শেয়ারের পতন পুরোপুরি রোখা সম্ভব হয়নি।
এই আচমকা পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বন্ডের চড়া সুদ এবং হোম লোন বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতাকে দায়ী করছেন। বন্ডের ইয়েল্ড (Yield) বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিগুলির পক্ষে বাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহ করা ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এর পাশাপাশি, আবাসন ঋণের বাজারে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার ফলে কোম্পানির নিট ইন্টারেস্ট মার্জিন বা এনআইএম (NIM) চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুনাফা হ্রাসের এই আশঙ্কাই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং তারা শেয়ার বিক্রির পথ বেছে নিয়েছেন। তাছাড়া, কোম্পানির পক্ষ থেকে লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় বাজারে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
গত মার্চ ত্রৈমাসিকে কোম্পানিটির আর্থিক পারফরম্যান্স বেশ শক্তিশালী ছিল। ২০২৬ আর্থিক বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা বার্ষিক ভিত্তিতে ৮.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৪৯২.৫৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। ঋণের খরচ কমা এবং ব্যবসায়িক স্থায়িত্বের কারণে এই লাভ সম্ভব হয়েছিল। যদিও সেই সময়ে কোম্পানির মোট রাজস্ব ১.২৫ শতাংশ সামান্য কমে ৭,২১১.৯২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছিল এবং কার্যনির্বাহী মুনাফা বা ইবিডা (EBITDA) সামান্য কমে ৬,৭৪৮.৬১ কোটি টাকায় নেমেছিল।
গত এক বছরে এই শেয়ারের গতিপ্রকৃতিতে ব্যাপক উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। ঠিক এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই এই শেয়ারটি বিএসই-তে ৬০,০.০০ টাকার বার্ষিক সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে (Record High) পৌঁছেছিল। কিন্তু সেই উচ্চস্তর ধরে রাখতে না পেরে শেয়ারটিতে মারাত্মক পতন শুরু হয়। মাত্র ৮ মাসের মধ্যে এই স্টকটি প্রায় ২৩.৪৯ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়ে চলতি বছরের ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে ৪৫৯.০৫ টাকার বার্ষিক সর্বনিম্ন স্তরে (Record Low) নেমে আসে। আজকের এই ত্রৈমাসিক ফলাফল এবং বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।