পাঞ্জাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারি! আপ সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দিল্লি ইউনিট বৃহস্পতিবার রাজধানীর মান্ডি হাউসের নিকটবর্তী আম আদমি পার্টি (আপ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বাইরে এক ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পাঞ্জাবে সংঘটিত একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তুলে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। বিজেপি-র দিল্লি শাখার সভাপতি হর্ষ মালহোত্রার ನೇত্বত্বে দলের কর্মী-সমর্থকরা ফিরোজ শাহ রোডের ‘আপ’ হেডকোয়ার্টারের ঠিক বাইরে সমবেত হন এবং তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করেন।
বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল পাঞ্জাবের শিক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা। হর্ষ মালহোত্রা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে সাড়ে চার বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ‘আপ’ সরকারের আমলে মোট ছয়টি বড় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এই গুরুতর ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী হরজ্যোৎ সিং বাইন্স সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদত্যাগ দাবি করেন। প্রসঙ্গত, এর আগে ‘আপ’ সুপ্রিমো তথা জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল দাবি করেছিলেন যে, তাঁদের শাসনকালে একটিও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। তবে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে, একটি পরীক্ষার সময় দুটি কেন্দ্রে কিছু পরীক্ষার্থী ডিজিটাল পেনের মাধ্যমে অনৈতিক উপায়ে নকল করার চেষ্টা করেছিল, যাদের হাতেনাতে ধরা হয়েছিল। কিন্তু তা কোনোভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস নয় বলে সাফাই দেন তিনি।
যদিও কেজরিওয়ালের এই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে বিজেপি নেতারা আক্রমণ শাণিত করেছেন। বিক্ষোভে শামিল হওয়া বিজেপি সংসদ সদস্য, বিধায়ক এবং শীর্ষ প্রদেশ পদাধিকারীরা অভিযোগ করেন যে, লাগাতার ছয়টি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র লিক হওয়ার ফলে রাজ্যের প্রায় ৩০ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই বিশাল সংখ্যক যুবসমাজ এবং ছাত্রসমাজের জীবন নিয়ে সরকার ছিনিমিনি খেলছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
রাজনৈতিক সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে বিজেপি আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এনেছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি যন্তর মন্তরে ককরোজ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রকাশ্য সমর্থন জুগিয়েছিল ‘আপ’। ওই একই সময়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জোরালো দাবি তোলা হয়েছিল। অথচ নিজেদের রাজ্যে প্রশ্নফাঁসের পাহাড়প্রমাণ কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে আপ নেতৃত্ব এখন সম্পূর্ণ দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে বলে তীব্র কটাক্ষ করেছে দিল্লি বিজেপি।