মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে উপচে পড়া ভিড়! দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিয়ে সুব্রেন্দুর মুখোমুখি সাধারণ মানুষ!

মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচির আজ অষ্টম দিন। বৃহস্পতিবার এই বিশেষ দরবারে একাধিক জটিল সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখোমুখি হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ ছুটে এসেছেন তাঁদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যার আশু সমাধানের আশায়। এই গণদরবারে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও দুর্দশার চিত্র।

এমনই একজন আবেদনকারী হলেন পেশায় নার্স মহুয়া মাইতি। ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে চরম স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিনি হাজির হয়েছিলেন জনতার দরবারে। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও ভয় দেখিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক অনিয়মিত জায়গায় বদলি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও আগের সরকারের আমলে এই বদলি সমস্যার কোনো সুরাহা মেলেনি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ার পর নতুন সরকারের কাছে আশার আলো দেখছেন তিনি। নিজের বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত ‘বদলি’র জট কাটার আশায় আজ তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর স্মরণাপন্ন হয়েছেন।

শুধু মহুয়া নন, সুদূর সুন্দরবন থেকে এক মেয়ের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসার আকুতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ছুটে এসেছেন এক অসহায় মা। তাঁর মেয়ে মনীষা গুপ্তার শরীরে ২০২৩ সালে হৃদপিণ্ডে ফুটো (Heart Hole) ধরা পড়ে। মা আরতি গুপ্তা দীর্ঘদিন ধরে এসএসকেএম সহ বিভিন্ন নামী হাসপাতালে ঘুরেও মেয়ের চিকিৎসার কোনো সুরাহা পাননি। অবশেষে সমস্ত দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেষ ভরসা হিসেবে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন।

এদিকে, জনতার দরবারে ন্যায়বিচারের আর্জি নিয়ে হাজির হয়েছেন কৃষ্ণনগরের এক বাসিন্দা। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নৃশংসভাবে অ্যাসিড আক্রান্ত হয়ে খুন হয়েছিল তাঁর মেয়ে, কিন্তু দীর্ঘদিনেও মেলেনি কোনো বিচার। কৃষ্ণনগরের আশ্রমপাড়ায় ঘটা এই চাঞ্চল্যকর অ্যাসিড হামলায় মৃত্যুর পর তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, পরবর্তীতে পুলিশের তরফ থেকে গোটা খুনের ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং এলাকার তৎকালীন সাংসদ মহুয়া মৈত্রের পক্ষ থেকে বয়ান বদলের জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। আজ সেই ঘটনার সঠিক বিচারের আশাতেই তাঁরা সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে উপস্থিত হয়েছেন।

অন্যদিকে, শুধু ব্যক্তিগত অভাব-অভিযোগই নয়, রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক বঞ্চনার ছবিও ফুটে উঠেছে এই দরবারে। অভিযোগের দীর্ঘ ফর্দ নিয়ে উপস্থিত হন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পঞ্চায়েত দফতরের কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মিথ্যে অজুহাত দেখিয়ে পঞ্চায়েত দফতরের নিচুতলার কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ বা পার্মানেন্ট করা হয়নি। তবে বর্তমান রাজ্য সরকার পঞ্চায়েত দফতরে উন্নয়নের একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায়, কর্মীদের স্থায়ীকরণের জোরালো দাবি নিয়ে এদিন রাজ্যের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা কর্মীরা এই জনতার দরবারে শামিল হন।