সংসদে তুমুল হাঙ্গামার মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর হাই-ভোল্টেজ বৈঠক! কোন বড় ঝড়ের আভাস পেল দিল্লি?

সংসদের উভয় কক্ষেই বিরোধী দলগুলির লাগাতার হাঙ্গামা এবং তীব্র প্রতিবাদের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। চলমান ছাত্র আন্দোলন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্যই এই বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদ ভবনে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব কার্যালয়ে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। এই জরুরি বৈঠকে সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত হেভিওয়েট মন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শ্রমকার, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালও এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা, শিপিং মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং মন্ত্রী কিরেন রিজিজুসহ সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট সদস্য। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজ্যে দানা বাঁধা ছাত্র আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং তার মোকাবিলা নিয়ে সরকারের কৌশল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সংকট থেকে উদ্ভূত জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগের বিষয়গুলি এখানে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত হরমুজ সংকটের বিভিন্ন দিক নিয়েও এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে এর প্রভাবে সংসদের উভয় কক্ষের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আজ নিয়ে টানা অষ্টম দিনের মতো সংসদের অধিবেশন কার্যত অচল রয়েছে। লোকসভার কার্যক্রম শুরু হওয়ামাত্রই হাঙ্গামার জেরে প্রশ্নকাল বাতিল করতে বাধ্য হন স্পিকার এবং দুপুর দুটো পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি রাখা হয়। পরবর্তীতে দুপুর দুটোয় লোকসভা ও রাজ্যসভায় কার্যক্রম শুরু হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের উদ্যোগে রাজ্যসভায় ‘অ্যান্টি পেপার লিক বিল’ বা পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রಿವೆভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) বিল পেশ করা হয় এবং সেই বিলের ওপর বিতর্ক শুরু হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার লোকসভায় কংগ্রেসসহ সমমনা বিরোধী দলগুলির লাগাতার স্লোগান ও হাঙ্গামার কারণে প্রশ্নকাল টানা আট দিন ধরে ভণ্ডুল হয়ে যায়। গতকাল বুধবার লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভাষণ চলাকালীন উদ্ভূত অচলাবস্থার প্রতিবাদে কংগ্রেস সাংসদরা আজও সরব ছিলেন। এছাড়া গত সপ্তাহে দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর कथित পুলিশি বাড়াবাড়ির তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সুনির্দিষ্ট বিবৃতির দাবিতে বিরোধীরা সদনে তুমুল হট্টগোল সৃষ্টি করেন। একদিকে সংসদীয় কার্যক্রমে এই নজিরবিহীন অবরোধ এবং অন্যদিকে সরকারের শীর্ষ স্তরে এই জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক দেশের রাজনৈতিক পারদকে এক লহমায় অনেকটাই চড়িয়ে দিয়েছে।