১৬ জনের জামিন পেতেই বদলে গেল সুর! প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুনের কোন মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য?

বাংলার রাজনীতিতে এখন পালাবদলের হাওয়া। গত ৪ মে থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক মাঝেই বাংলার সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজকে এক অদ্ভুত ও কড়া ‘গান্ধীগিরির’ পাঠ দিলেন প্রাক্তন আইপিএস তথা বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বর্তমানের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাবধান হওয়ার সময় এসে গেছে। নিজের ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, “১৬ জনের বেল হল কিন্তু মুসলমানরা সাবধান, কেউ আপনাকে বাঁচাবে না! গন্ডগোলের সম্ভাবনা, এমন জায়গাতে যাবেন না। গান্ধীজির কথা মানুন, বুরা মত শুনো, বুরা মত দেখো, বুরা মত কহো। সময় বদলাবে আপনার হাত ধরেই!”
মূলত, রাজধানী দিল্লির মতো কলকাতাতেও তখন নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। সেই মিছিলে যোগ দিয়েছিল বিভিন্ন অংশের ছাত্র-যুবরা। তবে সেই সংবাদের কভারেজ করতে গিয়ে চরম শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন একাধিক সাংবাদিক। পরবর্তীতে সেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে গিয়েই কলকাতা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে মোট ১৬ জনের নাম উঠে আসে, এবং চাঞ্চল্যকরভাবে জানা যায় যে ধৃত ওই প্রত্যেকেই সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের। সবচেয়ে বড় কথা হলো, পুলিশের অপরাধ দমন শাখার পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ধৃত ওই ব্যক্তিদের কেউই আদতে কোনো কলেজের ছাত্র বা বৈধ রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত পড়ুয়া নন। তা সত্ত্বেও হঠাৎ করে ছাত্র আন্দোলনের সেই মিছিলে তাঁদের উপস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা নিয়ে একাধিক মহলে তীব্র প্রশ্ন ওঠে।
যদিও পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দিষ্ট গাইডলাইন ও নিয়ম মেনেই সেই ১৬ জনকেই জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবিরের এই ফেসবুক পোস্টটি প্রকাশ্যে আসে। মুহূর্তের মধ্যে সেই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র আলোচনার ঝড় উঠেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি ক্ষুদ্র অংশ এই বার্তার সমর্থনে কথা বললেও, সিংহভাগ সচেতন মানুষই এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, জামিন পেলেও পুলিশের তদন্তে ও তথ্যপ্রমাণে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে সেদিন যারা মিছিলে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এবং সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে নিগ্রহ করেছিল, তারা কেউই প্রকৃত ছাত্র ছিল না। বরং পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে রাজ্যে হিংসা ছড়ানোর ছক কষা হয়েছিল।
তাহলে কি এই ঘটনার সঙ্গে বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোনো গভীর যোগসূত্র রয়েছে? পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে কি হুমায়ুন কবির ওই ১৬ জন অভিযুক্তকে সমাজ বিপ্লবীর তকমা দিতে চাইছেন? তিনি কি এটাই বোঝাতে চান যে আফরোজ, আজাদ কিংবা খুরশিদদের মতো ব্যক্তিদের শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসার শিকার বানিয়েই গ্রেফতার করা হয়েছিল?
যদিও নিজের সেই দীর্ঘ পোস্টে হুমায়ুন কবির এও উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিবর্তনের হাওয়ায় শুধুমাত্র ধর্ম নিয়ে মাতামাতি করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ধর্মীয় উগ্রতা বা গোঁড়ামি ঝেড়ে ফেলে তিনি মুসলিম যুবসমাজকে আধুনিক সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার এবং কট্টরপন্থী মৌলবাদীদের থেকে সর্বদা দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, সাংবাদিক নিগ্রহের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আফরোজ ও খুরশিদের মতো অভিযুক্তদের উদাহরণ টেনে এনে তাদের কোনোভাবেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের বলি হিসেবে প্রমাণ করা যাবে না বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের একাংশ।