প্রধানমন্ত্রীর পোস্টার বিতর্ক নিয়ে বিস্ফোরক মমতা শংকর! শ্রীলেখার কড়া সমালোচনা করে কী বললেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী?

নিট (NEET) পরীক্ষায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ২৪ জুলাই কলকাতার ব্যস্ত ধর্মতলায় একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সেই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও আপত্তিকর পোস্টার প্রদর্শন করে ছবি তোলার গুরুতর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই নিন্দনীয় পোস্টারকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এরই মধ্যে গোটা বিষয়টি নিয়ে নিজের স্পষ্ট মত প্রকাশ করে মুখ খুলেছেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শংকর। মঙ্গলবার লোকভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে এক সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে শ্রীলেখা মিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত পরিপক্ব ও দায়িত্বশীল মন্তব্য করেন।
মমতা শংকর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমার মনে হয় একজন মানুষ হিসেবে প্রত্যেক মানুষের প্রতিই ন্যূনতম শ্রদ্ধা থাকা উচিত। বিশেষ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি। তাঁর এই ধরনের সম্মানহানি করার কোনো অধিকার বা একচেটিয়া স্বাধীনতা আমাদের কারও নেই।” নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও জানান, “যেকোনো বিষয়ে সমালোচনা করা বা আঙুল তোলা খুব সহজ কাজ, কিন্তু সেই চরম দায়িত্বের আসনে বসে গোটা একটা দেশ চালানো কতটা কঠিন ও জটিল, সেটা আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না। একটা সাধারণ পরিবার সামলাতেই যেখানে আমাদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেখানে কোটি কোটি মানুষের একটি দেশের নেতৃত্ব দেওয়া কতটা কঠিন, তা শান্ত মাথায় ভেবে দেখা প্রয়োজন।”
দেশের চলমান বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রবীণ এই শিল্পী আরও বলেন, “একদিকে বিভিন্ন রাজ্যে ভয়াবহ বন্যা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, কোথাও আবার তীব্র ছাত্র আন্দোলন—সব দিক একসঙ্গে সামলাতে হয় সরকারকে। তাই সব বিষয়ে মুহূর্তের মধ্যে তাৎক্ষণিক সমাধান আশা না করে জনগণের একটু ধৈর্য রাখা উচিত।” পরিশেষে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মূল্যবোধ বজায় রাখার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষ যেন মানুষের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং অহিংস মনোভাব একেবারেই হারিয়ে না ফেলে। রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু ন্যূনতম শালীনতা ও সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
উল্লেখ্য, ধর্মতলার সেই বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি বিকৃত করে প্রদর্শনের অপরাধে ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র কেয়া ঘোষ আনন্দপুর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরবর্তীতে বিজেপির আরও বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা-কর্মী বিধাননগর সাইবার থানাতেও পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এই অনভিপ্রেত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তবে এই সমস্ত আইনি জটিলতা ও সমালোচনার মাঝেও শ্রীলেখা মিত্র নিজের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও সরে আসেননি। পুলিশি গ্রেফতারি বা আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে বিন্দুমাত্র উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। বরং নিজের সপক্ষে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন। শ্রীলেখাকে ঘিরে চলা এই তীব্র বিতর্কের আবহে মমতা শংকরের সুচিন্তিত এই মন্তব্য সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোরদার আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তাঁর এই বক্তব্যে যেমন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কথা জোরালোভাবে উঠে এসেছে, তেমনই গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমার মধ্যে থেকে শালীনতা বজায় রাখার বার্তাটিও অত্যন্ত স্পষ্ট হয়েছে।