এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনা কাণ্ডে মোড় ঘোরালো তথ্য! ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে কি কোনও ত্রুটি ছিল না?

গত বছর গোটা দেশকে কাঁপিয়ে দেওয়া মর্মান্তিক এয়ার ইন্ডিয়া AI-171 বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত এখন একেবারে চূড়ান্ত ও শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬০ জন দুর্ভাগ্যজনক যাত্রী ও বিমানকর্মী। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সেই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেমে তদন্তকারীরা ওই বিমানের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘ফুয়েল কন্ট্রোল স্যুইচ’ (Fuel Control Switch) কিংবা তার লকিং মেকানিজমে বিন্দুমাত্র যান্ত্রিক ত্রুটি খুঁজে পাননি। সংসদীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লোকসভায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে খোদ কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহল লোকসভায় লিখিতভাবে জানান যে, বিমান নির্মাণকারী মূল প্রস্তুতকারী সংস্থা অর্থাৎ অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার (OEM)-কে দায়িত্ব দিয়ে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। সেই সূক্ষ্ম পরীক্ষায় বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তথা ফুয়েল কন্ট্রোল স্যুইচ এবং তার লকিং ডিটেন্টস-এর গঠনগত কাঠামোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা হয়েছে। ডিজিসিএ (DGCA)-র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষায় কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা যান্ত্রিক গোলযোগ ধরা পড়েনি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই এই একই মডেলের বিমানগুলিকে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড বা উড়ান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিমানগুলি আদৌ সম্পূর্ণ উড়ানের যোগ্য অবস্থায় রয়েছে কিনা, তা যাচাই করার অংশ হিসেবেই ডিজিসিএ এই বিশেষ পরীক্ষার কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল।

তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই বিমানের সম্পূর্ণ ‘থ্রাস্ট কন্ট্রোল মডিউল’ (Thrust Control Module)-এর অত্যন্ত বিশদ ও টেকনিক্যাল পরীক্ষা এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থিত ওই OEM-এর নিজস্ব হাই-টেক গবেষণাগারে চলমান রয়েছে। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB) এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় তদন্তকারীরা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে সেই পরীক্ষার চূড়ান্ত ও সুনির্দিষ্ট ফলাফলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

এর আগে বিরোধী শিবির থেকে তীব্র অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB) তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরিতে ও প্রকাশে অনাবশ্যক কালক্ষেপ করছে। সরকারের তরফে এই সমস্ত জল্পনা সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, বিমান দুর্ঘটনার মতো এত বড় এবং জটিল আন্তর্জাতিক তদন্তের কাজ কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার গণ্ডিতে বাঁধা সম্ভব নয়। তদন্ত চলাকালীন নতুন নতুন তথ্য, প্রযুক্তিগত প্রমাণ এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক দিক সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের পরিধি ও গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হয়।

মন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পিছনে লুকিয়ে থাকা সমস্ত সম্ভাব্য কারণ এবং সহায়ক কারণগুলি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তদন্তের কাজ একেবারে শেষ ধাপে এসে ঠেকেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই AAIB-র পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে এবং তা তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও আপলোড করে দেওয়া হবে।