সরকারি বাসচালকের কুঁড়েঘরে পেটি পেটি ক্যাশ আর ১৫ কেজি সোনা! বীরভূমে এত টাকা এল কোথা থেকে?

বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি সাধারণ বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সোনা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডি যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, বাড়িটি থেকে এখনও পর্যন্ত নগদ প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। যে বাড়ি থেকে এই বিশাল সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছে, তার মালিক মিনার মণ্ডল পেশায় একজন সরকারি বাসচালক ছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি স্বেচ্ছাবসর নিয়েছিলেন। গ্রামের একদম শেষপ্রান্তে অবস্থিত এই ছাপোষা বাসচালকের বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুকিয়ে রাখার ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পলাতক পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে দুটি ভোট পরবর্তী হিংসার গুরুতর মামলা রয়েছে। এই পাথর ব্যবসায়ী অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তাঁর সমস্ত অবৈধ সম্পদ এবং কালো টাকা লুকিয়ে রাখার জন্য ওই সরকারি বাসচালকের বাড়িটিকে বেছে নিয়েছিলেন। বাসচালকের জীবনযাপন অত্যন্ত সাধারণ হওয়ায় কারও মনে যাতে কোনো সন্দেহ না জাগে, সেই উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সঠিক সময়ে সেখানে হানা দেয়। তল্লাশি চালাতে গিয়ে তদন্তকারী দল দেখতে পায় যে, ঘরের বিভিন্ন কোণায় কাগজের পেটিতে ভরে রাখা হয়েছে বান্ডিল বান্ডিল টাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নগদ টাকা গোনার জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয় বিশেষ মেশিন।
এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর উদ্ধার অভিযানের পর রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। এই সফল পুলিশি অভিযান সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি জানান, বালি ও পাথর মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের এই অভিযান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বীরভূম পুলিশ ও সিআইডি যেভাবে মহম্মদবাজার এলাকায় এই অপরাধের জাল ভেঙে দিয়েছে, তার জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজিপি এবং বীরভূম জেলার পুলিশ সুপারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসনের নীতি অত্যন্ত কঠোর অর্থাৎ জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান এবং টাকা গোনার কাজ পুরোদমে চলছে, আর এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।