বিশ্বের ৭০ শতাংশ বাঘ এখন ভারতেই! আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসে দেশজুড়ে উল্লাস, কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

বিশ্বের মোট বাঘের সংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশই এখন ভারতে সুরক্ষিত রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মিলেমিশে বেঁচে থাকার প্রাচীন ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হিসেবেই এই সাফল্যকে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতি বছর ২৯ জুলাই অত্যন্ত তাৎপর্যের সঙ্গে পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস’। এই বিশেষ দিনে সমস্ত বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অটুট অঙ্গীকার আরও একবার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি দেশের অদম্য বনকর্মী, প্রবীণ বিজ্ঞানী এবং নিবেদিতপ্রাণ সংরক্ষণবাদীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করে জানান যে, বাঘ রক্ষায় তাঁদের এই আন্তরিক নিষ্ঠা ও একাগ্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।
সোশাল মিডিয়ায় নিজের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে উদ্দেশ করে জানান যে, বিশ্বের মোট বন্য বাঘের সংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের নিরাপদ আবাসস্থল হতে পেরে সমগ্র দেশ আজ অত্যন্ত গর্বিত। বুধবার একটি বিশেষ এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, “প্রকৃতির সঙ্গে নিখুঁত সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করাই আমাদের বহু-প্রাচীন সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। দেশের সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তিই ভারতের বাঘ সংরক্ষণের এই সুমহান প্রচেষ্টাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত ও শক্তিশালী করে তুলেছে। আমরা বিজ্ঞান-ভিত্তিক সংরক্ষণ কৌশল, স্থানীয় গ্রামীণ সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্থায়ী উন্নয়নের প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি—যা আমাদের সামগ্রিক বাঘ সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলে।”
তাঁর মূল্যবান কথায় স্পষ্ট ফুটে উঠেছে যে, বন্যপ্রাণী রক্ষায় গ্রামীণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর ক্ষমতায়ন এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যেকার সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর বিষয়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সালের পর থেকে ভারতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত গণনায় বাঘের সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সর্বশেষ ‘অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশন ২০২২’-এর প্রকাশিত সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে সমগ্র দেশজুড়ে মোট ৩,৬৮২টি বন্য বাঘের বিচরণ রয়েছে, যা গোটা পৃথিবীর মোট বন্য বাঘের সংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ। এর সুবাদেই ভারতের বহুমুখী বাঘ সংরক্ষণ কর্মসূচি আজ বিশ্বজুড়ে বন্যপ্রাণী পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম সেরা বিশ্বমানের মডেলে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালের এই ব্যাপক সমীক্ষায় দেশের মোট ২০টি রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং প্রায় ৬.৪১ লক্ষ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা পায়ে হেঁটে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে জরিপ করা হয়েছিল।
পরিবেশ মন্ত্রক তাদের বিশদ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে যে, বন্যপ্রাণী ও বাঘ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের নীতিগত কাঠামোটি মূলত দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতীয় ও রাজ্য স্তরের ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার এক অনন্য সুষম সমন্বয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘প্রোজেক্ট টাইগার’, ‘ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি’ (NTCA) এবং বিশেষ ‘টাইগার কনজারভেশন প্ল্যান’ বা বাঘ সংরক্ষণ পরিকল্পনার মতো একাধিক কার্যকর উদ্যোগের নিখুঁত সমন্বয়ে বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রোজেক্ট টাইগার’ প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দেশের মোট ১৮টি রাজ্যের বুকে প্রায় ৫৮টি সুবৃহৎ ‘টাইগার রিজার্ভ’ বা সংরক্ষিত বাঘ অভয়ারণ্যের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এই সুরক্ষিত বনাঞ্চলগুলি প্রায় ৮৪,৫00 বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে, যা ভারতের মোট ভৌগোলিক আয়তনের প্রায় ২.৫৬ শতাংশ। ভারতের কাছে বন্যপ্রাণী ও বাঘ সংরক্ষণ কেবল একটি সাধারণ প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত গতিশীল ও ক্রমবিকাশমান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। সুদূর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভারতের মূল লক্ষ্য হল, বাঘের জন্য এমন সমস্ত সংযুক্ত ও জলবায়ু-সহনশীল বিচরণক্ষেত্র সুনিশ্চিত করা, যা বন্যপ্রাণী এবং স্থানীয় মানুষ—উভয়ের পক্ষ থেকেই সমানভাবে সহায়ক ও নিরাপদ হবে।