কাশ্মীরে নির্বিচারে গুলি ও রক্তগঙ্গা! আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কঠোর পদক্ষেপে চরম বিপাকে পাকিস্তান সরকার

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাওয়ালাকোট ও পিজেকে অঞ্চলে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংস সহিংসতার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত ২৭ জুলাই রাওয়ালাকোটে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং কোটলিতে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে চলা দাঙ্গার জেরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মানবাধিকার সংস্থাটির প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক বিস্ফোরক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ওই অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার নামে নির্বিচারে বলপ্রয়োগ এবং গুলিবর্ষণের ফলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ইসাবেল লাসি অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, রাওয়ালাকোট থেকে আসা প্রতিটি উদ্বেগজনক খবর জম্মু ও কাশ্মীরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বেআইনি সহিংসতার দীর্ঘ ও কালো ইতিহাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। অবিলম্বে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর চরম বলপ্রয়োগের ঘটনার একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, উচ্চপর্যায়ের ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিগত গত ৫ জুন থেকে লাগাতার বন্ধ থাকা মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা অবিলম্বে সচল করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অবাধে ওই সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতির দ্বিতীয় অংশে জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র ওপর আরোপিত বেআইনি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে যে, জেএএসি-র ওপর এই ধরনের দমনমূলক নিষেধাজ্ঞার কারণে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের প্রতি বারবার কড়া হুংকার দিয়ে অ্যামনেস্টি দাবি জানিয়েছে যে, অবিলম্বে এই প্রতিবাদ-আন্দোলনের ওপর থেকে সমস্ত বেআইনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। পাশাপাশি, জেএএসি-র সদস্য ও সাধারণ সমর্থকদের স্বাধীন কণ্ঠস্বর রোধ করতে এবং নির্বিচারে আটকে রাখতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে কখনোই বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা চালানোর বৈধ অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন থেকেই পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিক সেদিনই বিশেষ ‘আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইন, ২০১৪’-এর প্রথম তফসিলের আওতাভুক্ত করে জেএএসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। জেএএসি-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলিতে ১৯ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী নিহত এবং বহু মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন, যদিও গণমাধ্যমের একাংশের প্রতিবেদনে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। অপরদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই সংঘর্ষে তাদের অন্তত দুজন সদস্যও আহত হয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই কড়া অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তান সরকারের মানববাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত নীতি ফের একবার প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে।