উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড! পুলিশের জালে শিবালিক কলেজের অধ্যাপক!

উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ। এই গুরুতর মামলায় পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, যার নাম আশিস কুমার গুপ্ত। তিনি শিবালিক কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্তের মূল বাড়ি উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের শাকুম্ভরী বিহার এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র শিক্ষামহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মামলার বিবরণ প্রকাশ করে পুলিশ জানিয়েছে যে, গত ২৩ জুলাই দেরাদুনের বীর মাধব সিং ভান্ডারি উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডঃ বিনয় কুমার প্যাটেল প্রেমনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিনয় কুমারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ৮ জুলাই একটি রহস্যজনক ই-মেল হাতে পায়। ওই ই-মেলটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, গত ৩ জুলাই দেরাদুনের শিবালিক কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওই সহকারী অধ্যাপক একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে পরীক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন প্রশ্নপত্র শেয়ার করেছিলেন। পরবর্তীতে মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ওই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের প্রশ্নগুলি মিলিয়ে দেখা হলে তাতে আশ্চর্যজনক ও উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায়।

এই গুরুতর তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক পরীক্ষার দিন বা তার আগে কলেজের অভ্যন্তরীণ পোর্টালে এবং বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হুবহু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শেয়ার করেছিলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীকে অন্যায্য ও অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও পবিত্রতা লঙ্ঘন করা।

উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডঃ বিনয় কুমার প্যাটেলের করা এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রেমনগর থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারা অর্থাৎ ৩১৬, ৩১৮ (৪) এবং ৬১ (২)-এর অধীনে একটি শক্তপোক্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেরাদুনের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশের সরাসরি নির্দেশ ও তদারকিতে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সাক্ষীদের জবানবন্দি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত অধ্যাপক আশিস কুমার গুপ্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে এই ঘটনার শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এর নেপথ্যে অন্য কারও হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty