যন্তর মন্তরের উত্তাল আন্দোলনে যোগ দিলেন অরিজিৎ সিং ও সাহাল! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ?

দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র-যুব আন্দোলন এখন এক ঐতিহাসিক ও বিস্ফোরক রূপ ধারণ করেছে। NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড এবং তার জেরে পরীক্ষার্থীদের জীবনহানির মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রাজধানী দিল্লির বুকে চলা এই বিক্ষোভের সমর্থনে এবার সরাসরি মুখ খুললেন দেশের সংগীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র অরিজিৎ সিং এবং জাতীয় ফুটবলার সাহাল আবদুল সামাদ। তাঁদের এই সংহতি প্রকাশ আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল যন্তর মন্তরে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ছাত্র-যুব ও সাধারণ মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনও এই বিক্ষোভে নিজেদের সমর্থন জানিয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, শুধুমাত্র দেশীয় স্তরেই নয়, বরং বিদেশেও এই প্রতিবাদের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ এবং বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করে সমাজের বিশিষ্ট জনেরাও এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে গায়ক অরিজিৎ সিং সরাসরি কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও নেতামন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে এক বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর যেভাবে হাত তোলা হচ্ছে এবং মারধর করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ক্ষুব্ধ অরিজিৎ স্পষ্টভাষায় জানিয়েছেন যে, অন্যায় কখনোই মেনে নেওয়া যায় না এবং সময়ের সঙ্গে সবকিছুর হিসাব কড়া হাতে নেওয়া হবে। তাঁর এই জোরালো বার্তার পর অনুরাগীদের একাংশ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখালেও তিনি নিজের অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কারো খুশির জন্য তিনি নিজের মতামত বা নীতিবর্জিত কোনো আপস করবেন না।

অন্যদিকে, তরুণ ফুটবলার সাহাল আবদুল সামাদও এই পুলিশি দমনপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছেন যে, যে যুবসমাজ নিজেদের অধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে পথে নেমেছে, তাদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যুবকদের কণ্ঠস্বরকে কোনো ব্যারিকেড দিয়ে বা লাঠির জোরে দমিয়ে রাখা যায় না বলে মন্তব্য করে তিনি এই লড়াইয়ে সরাসরি ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে দিল্লির যন্তর মন্তরের এই আন্দোলন এখন গোটা দেশের প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।