ধাম না কালচারাল সেন্টার? দীঘার জগন্নাথ মন্দির বিতর্ক নিয়ে বিজেপিকে তোপ অভিনেত্রীর, পাল্টা ট্রোলের শিকার ময়না

টলিউডের নামী তারকারা তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে দূরত্ব বাড়ালেও, ছোটপর্দার পরিচিত মুখ অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও দল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন। তবে সাম্প্রতিক এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে চরম বিতর্কের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী ময়না। দীঘার জগন্নাথ মন্দির ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর করা পোস্টটি নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পোস্টে যা বলেছেন ময়না: গত বছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে উদ্বোধিত দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের কিছু ছবি শেয়ার করে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন ময়না। সেখানে তিনি দাবি করেন, এই মন্দিরের ফলে দীঘার অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। এরপরই তিনি বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে লেখেন, বিজেপি এই মন্দির নিয়ে অপ্রচার চালাচ্ছে এবং রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মন্দির চত্বরে ‘ধাম’ শব্দটির পরিবর্তে ‘কালচারাল সেন্টার’ লিখে দিয়েছে। ময়না আরও যোগ করেন, “রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মন্দির থাকবে হাজার বছর। ইতিহাস মনে রাখবে এই মন্দিরের স্রষ্টাকে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
বিতর্ক ও ট্রোল: অভিনেত্রীর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পোস্টের নিচে মন্তব্যবক্স কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ নেটিজেন ‘ধাম’ এবং ‘মন্দির’-এর তফাৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকের মতে, এই মন্দিরের নামকরণ ও ধাম সংক্রান্ত বিতর্কটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, যা নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। কেউ কেউ আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে লিখেছেন, “ধাম আর মন্দির এক নয়—এটা বোঝার ক্ষমতা নেত্রীর থাকলে এই বিতর্ক তৈরি হতো না।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে দীঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে রাজনৈতিক তরজা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরের বিরুদ্ধে মন্দির নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ তুলছে। ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পোস্ট সেই পুরনো বিতর্কেই নতুন করে ঘি ঢেলেছে। তবে নিজের পোস্টের সমর্থনে বা বিরোধিতার মুখে দাঁড়িয়ে অভিনেত্রী এখনও পর্যন্ত কোনো পাল্টা মন্তব্য করেননি।
সব মিলিয়ে, টলিপাড়ার খুব কম যে কজন তারকা বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে সরব, তাঁদের অন্যতম ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই বিতর্কিত পোস্টটি যে সাধারণ মানুষের একাংশের কাছে তাঁকে নেতিবাচক প্রচারের মুখে ফেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।