তিন রাজ্যে রক্তস্নাত ভোর! রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু

সোমবার দেশজুড়ে সড়কপথের চিত্র ছিল অত্যন্ত করুণ। রাজস্থান, মহারাষ্ট্র এবং উত্তর প্রদেশে ঘটে যাওয়া তিনটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১১ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা এই মৃত্যুসংবাদ শোকের ছায়া ফেলেছে গোটা দেশে।
রাজস্থানে স্করপিও-ডাম্পারের সংঘর্ষে মৃত ৫:
রাজস্থানের বালত্রা জেলার এনএইচ-১২৫ এর ভান্ডিয়াবাস গ্রামের কাছে গত রাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। যোধপুরের ভোমিয়াজি মন্দিরে পূজা দিয়ে ফেরার পথে একটি দ্রুতগামী স্করপিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত ডাম্পারে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে স্করপিও গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই পাঁচ যুবকের মৃত্যু হয়। মৃতরা হলেন—রেবন্ত রাম (২৬), স্বরূপরাম (২৭), ভরত (২৫), কিষাণ (২৭) এবং ভাবেশ। এরা সকলেই বায়াতুর কানোদ গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় বাবু, মুকেশ এবং হেমারাম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পুনেতে তীর্থযাত্রী ৩ মহিলার মৃত্যু:
মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার সাসওয়াড-জেজুরি সড়কে ওয়ারি উৎসবে অংশ নেওয়া ভক্তদের ওপর নেমে এল বিপর্যয়। আজ বেলসার টোল পোস্টের কাছে একটি ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিন মহিলা তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়। নান্দেদ থেকে আসা এই ভক্তদের দলটি জেজুরির দিকে যাওয়ার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকের ধাক্কায় আরও চারজন মহিলা গুরুতর আহত হন, যাদের তড়িঘড়ি পুনের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্রাকের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণহীন থাকায় চালক ব্রেক কষার সময় পাননি।
কানপুরে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা, মৃত দুই শিশুসহ ৩:
উত্তরপ্রদেশের কানপুরে মহারাজপুর থানা এলাকার রুমায় জাতীয় মহাসড়কের ওপর পার্ক করা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে একটি দ্রুতগামী স্করপিও। এই দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। স্করপিও গাড়িটি ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে থাকায় সংঘর্ষটি ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী। গাড়িটি দুমড়ে যাওয়ায় ভেতরে আটকে থাকা আহতদের বের করতে গ্যাস কাটার ব্যবহার করতে হয়। স্থানীয়রা জানান, ট্রাকটি সার্ভিস লেনে পার্ক করা ছিল এবং চালক ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘটনার পর চালক পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
এই তিনটি ঘটনাই আবারও প্রমাণ করল যে, রাতের বেলা হাইওয়েতে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো এবং পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে গাফিলতি কতটা মারাত্মক হতে পারে। পুলিশ প্রতিটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।