বদলের বাংলায় রথযাত্রার রমরমা! তিন গুণ বাড়ল সংখ্যা, নেপথ্যে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মাস্টারস্ট্রোক

রাজ্যের ধর্মীয় মানচিত্রে রথযাত্রার গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছরের তুলনায় এবার রথযাত্রার সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং আরএসএস-এর মতো বিভিন্ন সংগঠন। গত বছর গোটা রাজ্যে রথযাত্রার সংখ্যা ছিল এক হাজারের কিছু বেশি, যা এবার আরও বড় আকার ধারণ করতে চলেছে। জগতের নাথ জগন্নাথের আরাধনায় বাংলার প্রতিটি কোণ যেন মেতে উঠতে চলেছে নতুন উদ্দীপনায়।
এই রথযাত্রার প্রসারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে এবার উঠে এসেছে তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা। আগামী ১৪ জুলাই, জাতীয় মেলার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই মেলায় আয়োজিত হতে চলেছে এক বিশাল ধর্মসভা। এই আয়োজনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রিষড়া প্রেমমন্দিরের সম্পাদক নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী জানিয়েছেন, অতীতে সরকারি মেলা নিয়ে তাদের পরামর্শ নেওয়া হতো না, তবে এবার বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে এই ধর্মসভা নিশ্চিতভাবেই আয়োজিত হবে এবং এখন থেকে গঙ্গাসাগর মেলাও ধর্মসভার মাধ্যমেই সূচনা হবে।
রাজনৈতিক মহলে এই আয়োজনকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান জানিয়েছেন, শ্রাবণী মেলা দীর্ঘকাল অবহেলিত ছিল। এবার একে দেশ-বিদেশের পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, চার বিধানসভার বিধায়করা যৌথভাবে পরিশ্রম করে এই মেলাকে এক নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রাবণী মেলাকে জাতীয় উৎসবের মর্যাদা দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।
সংঘ পরিবারের মতে, জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি মানুষের আধ্যাত্মিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জগন্নাথের ধ্বনিতেই মোক্ষ লাভের আশায় ভক্তরা এই রথযাত্রায় সামিল হন। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর এই সক্রিয়তা এবং সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার আশ্বাস বাংলার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আসন্ন রথযাত্রার এই বিপুল বিস্তার যে বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আঙিনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, ধর্মসভার এই আবহ কতটা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলে।