রেশনে বড় কোপ! ৩৫ কেজির নিয়মে পরিবর্তন, এবার পরিবারের বরাদ্দ কমবে?

জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের তিন নম্বর ধারা সংশোধনের পথে মোদি সরকার। সংসদে এই নতুন বিল আনার প্রস্তুতি শুরু হতেই দেশজুড়ে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার অধীনে থাকা পরিবারগুলির বর্তমান রেশন বরাদ্দ পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। এতদিন পর্যন্ত পরিবার-পিছু ৩৫ কেজি চাল ও গম পাওয়ার যে প্রথা চালু ছিল, তা বদলে এবার ব্যক্তি-পিছু বরাদ্দের নিয়ম চালু করতে চলেছে কেন্দ্র।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাথাপিছু মাসে ৭ কেজি করে চাল-গম ধার্য করা হতে পারে। তবে এই নিয়মে একটি পরিবারের মোট বরাদ্দের ঊর্ধ্বসীমা ৩৫ কেজিই বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। গাণিতিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যে পরিবারে সদস্য সংখ্যা চার বা তার কম, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চার সদস্যের পরিবারে বর্তমান ৩৫ কেজির বদলে বরাদ্দ কমে ২৮ কেজিতে নেমে আসতে পারে, অর্থাৎ প্রায় ৭ কেজির ঘাটতি। একইভাবে তিন সদস্যের পরিবারে ঘাটতি হতে পারে ১৪ কেজি পর্যন্ত। অদ্ভুতভাবে, সাত সদস্যের পরিবার হলেও ৩৫ কেজির বেশি রেশন মিলবে না। অর্থাৎ বড় পরিবারের ক্ষেত্রেও এই ঊর্ধ্বসীমা এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, সমীক্ষায় দেখা গেছে অন্ত্যোদয় পরিবারের গড় সদস্যসংখ্যা সাতের চেয়ে অনেক কম। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সরকারি কোষাগারে বছরে প্রায় ১৩ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। তবে সরকারের এই সাশ্রয়ের অঙ্কের বিরোধিতায় সরব হয়েছে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন। তাদের দাবি, বরাদ্দ কমলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ডিলারদের কমিশনও সংকুচিত হবে, যা রেশন ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
অন্যদিকে, রেশন ব্যবস্থার হালচাল নিয়ে কোচবিহার থেকেও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জেলা খাদ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও প্রায় ৬২ হাজার ভোটারের কোনো রেশন কার্ড নেই। সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ার পরই এই তথ্য সামনে আসে। খাদ্য দপ্তর সূত্রে খবর, এই বিপুল সংখ্যক রেশন কার্ডহীন মানুষের মধ্যে একাংশ পরিযায়ী শ্রমিক, আবার অনেকের ক্ষেত্রে মৃত্যু বা ঠিকানার পরিবর্তনের কারণে নাম বাদ পড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় অনুপ্রবেশের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে পাকাপাকিভাবে বাদ পড়েছে, তাঁরা রেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তবে ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নাম আপাতত ডেটাবেস থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। খাদ্য দপ্তর আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। একদিকে সংসদে খাদ্য সুরক্ষা আইনের সংশোধন এবং অন্যদিকে জেলাস্তরে রেশন কার্ডের তথ্যের গরমিল—সব মিলিয়ে রেশনের নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমানে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।