ভোররাতের বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রক্তস্নাত অধ্যায়! বিবাদের জেরে খুন কুখ্যাত রাজা দত্ত, জখম ২

সোমবার ভোররাতে উত্তর দমদম পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিসাকোটা এলাকায় বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর গুলি চালিয়ে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হলো কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজা দত্তকে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই রাজা দত্ত তাঁর দুই সহযোগীকে নিয়ে বাইকে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষ দলের সাথে তাঁর তুমুল তর্কাতর্কি ও বচসা শুরু হয়।
অভিযোগ, বচসার মাঝেই রাজা দত্তের নিজের আগ্নেয়াস্ত্রটি তাঁর হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। এরপর সেই বন্দুক দিয়েই খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়। গুলিবর্ষণের পরই রাজা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার খবর পেয়েই দমদম ও খড়দহ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাজাকে উদ্ধার করে বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই হামলায় রাজা দত্তের সঙ্গে থাকা আরও দুই সঙ্গী জখম হয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে আটক করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ এবং রাজা দত্তের পূর্ব পরিচিত। পুরনো কোনো শত্রুতা বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই যে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত গোয়েন্দারা। তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—কিছুদিন আগেই স্থানীয় এক দুষ্কৃতীর পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই ভাঙচুরের নেপথ্যে ছিল রাজা দত্তের দল। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছিল। সেই পুরনো আক্রোশ থেকেই সোমবার ভোরে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক কষা হয়েছিল বলে ধারণা পুলিশের।
বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের মতো ব্যস্ততম এলাকায় এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছিল। পুলিশ আটক পাঁচজনকে দফায় দফায় জেরা করছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অশান্তি না ছড়ায়। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয়রা।