কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল ও উন্নয়নের বার্তা। মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে নাগরিকদের পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে যাতে কোনো খামতি না থাকে, তার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে পুরসভা। শহরের বাসিন্দাদের যাবতীয় অভিযোগ দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে ‘গ্রিভান্স ট্র্যাকিং অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’।
কলকাতা পুরনিগমে প্রতিদিন অবৈধ নির্মাণ, রাজস্ব সংক্রান্ত জটিলতা, পার্কিং, ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে উদ্যান রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত অজস্র অভিযোগ জমা পড়ে। এতকাল এই অভিযোগগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে আসত—কেউ কল সেন্টারে ফোন করতেন, কেউ পোর্টালে লিখতেন, কেউ আবার চ্যাটবট (৮৩৩৫৯৯৯১১১) বা ইমেলের মাধ্যমে জানাতেন। এছাড়া হার্ডকপি জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। অভিযোগের মাধ্যম এতো বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তা ঠিক সময়ে নজরে আসত না বা ফাইল চালাচালির জেরে নিষ্পত্তিতে দেরি হতো।
নতুন এই ‘গ্রিভান্স ট্র্যাকিং অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এর মাধ্যমে এই সমস্ত মাধ্যমকে এক ছাতার তলায় আনা হচ্ছে। ‘ই-কেএমসি ২.০’ (e-KMC 2.0) প্রযুক্তির সাহায্যে এবার সমস্ত অভিযোগকে ডিজিটালাইজ করা হবে। এর ফলে পুর কমিশনার প্রতিদিন এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে অভিযোগ নিষ্পত্তির রিয়েল-টাইম স্ট্যাটাস রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এমনকি পুর কমিশনারের ইমেলে আসা ব্যক্তিগত অভিযোগগুলোকেও এই সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসা হবে। পুর সচিবালয়ের কর্মীরা হাতে আসা অভিযোগের কপিগুলো স্ক্যান করে সিস্টেমে আপলোড করবেন, যা তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে যাবে।
নতুন এই সেন্টারের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা নজর রাখবেন প্রতিটি অভিযোগের ওপরে। কোনো অভিযোগের সুরাহা করতে যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় লাগে, তবে তার নির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে হবে। কাজ শেষ হলে মেসেজ, ইমেল বা ফোন কলের মাধ্যমে অভিযোগকারীকে জানানো হবে তাঁর সমস্যার সমাধান হয়েছে কি না। যদি কোনো মানবিক বা গুরুতর অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর মতামত নিয়ে তা পুরসভার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, এই নতুন কাঠামোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা বজায় রাখা। অভিযোগ পৌঁছাবে প্রশাসনের একেবারে নিচতলা থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত। এতে প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা বাড়বে। বারবার অভিযোগ জানানোর ভোগান্তি আর থাকবে না, বরং এক অভিযোগেই সুরাহা পাওয়ার পথে হাঁটবে শহর কলকাতা। নাগরিক সচেতনতা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মেলবন্ধনে কলকাতা পুরনিগমের এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক কাজের গতি ও গুণমান—উভয়ই বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





