‘নিউ মার্কেটের রাস্তা জবরদখল মানবো না!’ হকারদের নিয়ে কড়া অবস্থান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা থেকে কোন্নগর, দমদম থেকে হাওড়া—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটপাথ ও রাস্তা দখলমুক্ত করতে শুরু হয়েছে বুলডোজার অভিযান। জনমানসে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে এবার প্রথমবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ফুটপাথ সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য, এটি কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসার জায়গা নয়।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার অধিকার জনগণের রয়েছে। সেই ফুটপাথ দখল করে রাখার অধিকার কারো নেই। মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, আমি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। মুষ্টিমেয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে না।” তিনি আরও বলেন, “নিউ মার্কেটের রাস্তা এমনভাবে দখল হয়ে আছে যে মোটরসাইকেল যাওয়ার জায়গাও নেই। রাজাবাজার, খিদিরপুর কিংবা মেটিয়াবুরুজে যা খুশি তাই করা হচ্ছে—এটার জন্য মানুষ আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেনি।”

তবে হকারদের প্রতি কিছুটা মানবিক হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, যেখানে সরকারের খালি জমি রয়েছে এবং তা জনগণের প্রয়োজনে লাগছে না, সেখানে বৈধ বা অবৈধভাবে থাকা হকারদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হবে। একই সঙ্গে তিনি হকারদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম দপ্তরের যে স্কিম রয়েছে, তার সুবিধাও হকাররা পাবেন। তিনি হকারদের অনুরোধ করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন প্রাথমিক ভাবে সরে গিয়ে সহযোগিতা করেন।

এদিকে এদিন রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “টাটাকে আমরা এখানে ফেরাবই। সিঙ্গুরের ওই জমির সঙ্গে টাটার রড, সিমেন্ট সবকিছু মিশে রয়েছে। সেখানকার কৃষকরা এখন চাষের সুবিধা পাচ্ছেন না, জমি পড়ে আছে। আমরা সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ফের শিল্প আনতে চাই।” প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে ১২ বছর পূর্তিতে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী রাজ্য বাজেটেও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ ‘ভাল খবর’ থাকতে পারে।

ফুটপাথ উদ্ধার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান এবং শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি—উভয়ই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে শহরকে যানজটমুক্ত করে সাধারণের হাঁটার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং অন্যদিকে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ নিশ্চিত করা—এই দুই লক্ষ্যেই যে সরকার এগোচ্ছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট।