মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই বড়সড় বিপত্তির মুখে ফিরহাদ হাকিম (ববি হাকিম) এবং তাঁর পরিবার। জানা যাচ্ছে, এবার প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিমের বোন গীতি হাকিম। শনিবার সকাল থেকে একের পর এক উড়ো ফোনে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। গীতি হাকিমের দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ফার্ন রোডের একটি দুর্গা পুজো কমিটিকে কেন্দ্র করে। গীতি ওই কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগ, কমিটির কিছু গচ্ছিত টাকা নিয়ে স্থানীয় পুরমাতা সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়ের অনুগামীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল। গীতির দাবি, স্থানীয় থানার ওসি এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের সহযোগিতায় ওই পূজা কমিটিরই এক সদস্য সরকারি পোর্টাল হ্যাক করে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়েছেন। এই ঘটনার পর গীতি তড়িঘড়ি সংশ্লিষ্ট কমিটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেন। এর পরেই সুদর্শনার অনুগামীরা তাঁর কাছে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে দু’লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ।
শনিবার সকালে ফোনে আসা হুমকির প্রসঙ্গে গীতি হাকিম আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “ফোনে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, আপনার দাদা আপনাকে বাঁচাতে পারবে তো? আমি বারবার বলেছি, আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। দাদার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত লেনদেন নেই। তবুও তারা বাড়ি ঘেরাও করার হুমকি দিচ্ছে।” গীতির স্পষ্ট সন্দেহ, পুজোর কমিটির এই টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়েই সুদর্শনার লোকজন এই নোংরা খেলায় নেমেছে।
অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কাউন্সিলর সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়। তিনি সংবাদমাধ্যমকে সাফ জানিয়েছেন, “গত পাঁচ বছর ধরে গীতি হাকিমের সঙ্গে আমার কোনো প্রকার যোগাযোগ নেই—না সরাসরি দেখা হয়েছে, না কোনো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বিনিময় হয়েছে। গীতি হাকিম আগে তার অভিযোগের ভিত্তি প্রমাণ করুন।”
ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ ছাড়ার পরপরই এই ধরনের হুমকি ফোন আসার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। গীতি হাকিম এই ঘটনার পর নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন এবং শীঘ্রই আইনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি এবং তাঁর আইনজীবী পুলিশি অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই ঘটনার পেছনে কি কেবল দুর্গা পুজোর টাকার দ্বন্দ্ব, নাকি এর গভীরে অন্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছক লুকিয়ে আছে, তা নিয়েই এখন চলছে জোর চর্চা।





