মমতার দিল্লি সফরের আগেই বড় ধাক্কা! দলবদল না করেই আলাদা ব্লক তৈরির পথে তৃণমূল সাংসদরা?

তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার পর এবার কি ভাঙনের আঁচ সংসদীয় দলেও? রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে দিল্লির মসনদেও ঘাসফুল শিবিরে বড়োসড়ো রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে ভিড় বাড়াচ্ছেন একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে খবর।

দলের অন্দরে বিদ্রোহের নেপথ্যে মূলত শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ একাধিক সাংসদ। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে ১২ জন সাংসদ একজোট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই তালিকায় পার্থ ভৌমিক ও জগদীশ বসুনিয়ার নাম উঠে আসছে। তাঁদের মূল লক্ষ্য, লোকসভার অন্দরে আলাদা একটি ‘তৃণমূল ব্লক’ তৈরি করা। অনেকটা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কায়দাতেই এই পথ চলার পরিকল্পনা তাঁদের।

বিদ্রোহীদের তালিকায় নাম রয়েছে জুন মালিয়া, দীপক অধিকারী (দেব), ইউসুফ পাঠান, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শত্রুঘ্ন সিনহার মতো সেলেব্রিটি সাংসদদের। অভিযোগ, দলের কর্মসূচিতে অনিয়ম এবং শীর্ষ নেতৃত্বের একপেশে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এই ক্ষোভ। যদিও এই বিভাজন কীভাবে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতামুক্ত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আইন অনুযায়ী, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে মোট সাংসদ সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ থাকলেও বিদ্রোহীরা তাদের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি রাখছেন। এদিকে, বিজেপি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের কোনো সাংসদকে এই মুহূর্তে তারা দলে নেবে না। ফলে আলাদা ব্লক তৈরিই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

অন্যদিকে, ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায়রা এখনও মমতা-অভিষেক শিবিরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে দলের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তী ও খলিলুর রহমানের মতো সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে দোটানা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে কথা বলছেন। সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের আগেই এই পরিস্থিতি দলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের মাঝেই তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙনের সুর কি বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? উত্তর খুঁজছে দিল্লি ও কলকাতা—উভয়ই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy