রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরবর্তী সময়েই এবার মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাল-হকিকত জানতে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এবার সব মাদ্রাসার তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের কাছে ইতিমধ্যে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। মূলত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতেই এই সমীক্ষা চালানো হবে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের প্রধান সচিবের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সমীক্ষার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। রাজ্যের আওতাধীন অনুমোদিত, অননুমোদিত, নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, বেসরকারি এমনকি সম্প্রদায়-পরিচালিত মাদ্রাসাও এই সমীক্ষার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ব্লক ও পুরসভা ভিত্তিক এই সমীক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বর্তমান পরিকাঠামো, শিক্ষাক্রম, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা এবং পড়ুয়াদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
কেন এই হঠাৎ সমীক্ষা? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে নতুন কোনো শিক্ষা পরিকল্পনা বা শিশু কল্যাণ প্রকল্প আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তাছাড়া, জেলা-ভিত্তিক একটি তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করার মাধ্যমে মাদ্রাসার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি নিয়মবহির্ভূত কার্যকলাপ বা পরিকাঠামোগত কোনো গুরুতর ত্রুটি থাকে, তবে তা চিহ্নিত করাও এই সমীক্ষার একটি অন্যতম লক্ষ্য। নির্ধারিত ফরম্যাটে তথ্য সংগ্রহ করে আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে জেলা প্রশাসনকে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই সমীক্ষা ঘিরে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়ায়, তার জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছে সরকার। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। এই সমীক্ষার উদ্দেশ্য কোনোভাবেই কোনো মাদ্রাসাকে বন্ধ করা, জোরপূর্বক স্থানান্তর বা পড়ুয়াদের কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করা নয়। চলতি শিক্ষাবর্ষে সমস্ত মাদ্রাসা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পাঠদান আগের মতোই চালিয়ে যেতে পারবে। মূলত, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহই সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরে এই নির্দেশিকা নিয়ে এখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।





