‘গঙ্গার তীরে চিকেন বিরিয়ানি খেতে আইন বাধা দেয় না!’ ইফতার মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক বিচারপতি ভুঁইয়া

দেশে ভিন্নমত প্রকাশের গণতান্ত্রিক পরিসর দিন দিন কীভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে এবং তার জেরে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ কীভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, তা নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট ভাষায় নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া। শনিবার এক আলোচনা ও রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন যে, শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বা মতপ্রকাশ করার অপরাধে আজকের দিনে শিক্ষার্থীদের কারাবন্দি করা হচ্ছে। এমনকি জামিন পেলেও আদালতের তরফে এমন কিছু কঠোর শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতাকেন্দ্রিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে খর্ব করে।
নৌকায় ইফতার ও চিকেন বিরিয়ানি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য
আলোচনার এক পর্যায়ে বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া গঙ্গা নদীতে নৌকায় বসে ইফতার করার অপরাধে একদল তরুণের দীর্ঘ তিন মাস কারাবাসের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। যাঁর মধ্যে কোনো অপরাধই ছিল না, তাঁদের কেন জামিন নামঞ্জুর করা হলো—সেই প্রশ্ন তুলে বিচারপতি বলেন—
“আমি একশো শতাংশ নিশ্চিত যে, গঙ্গার তীরে বা নদীতে বসে চিকেন বিরিয়ানি খাওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না। গঙ্গা নদীতে মুরগির মাংস বা আমিষ খাওয়া নিষিদ্ধ করার মতো দেশের সংবিধানে বা আইনে কোনো নির্দিষ্ট ধারা নেই! তা সত্ত্বেও ঠিক এই কারণে একদল তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বিনা দোষে তাঁদের তিন মাস জেলে কাটাতে হয়েছে। আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, এমন সাধারণ একটি কাজের জন্য কি মানুষকে এভাবে গ্রেপ্তার করে তিন মাস ধরে জামিন আটকে রাখা যায়? সাধারণ মানুষ আজ সব দেখছে।”
প্রতিবাদ ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন
বিচারপতি ভূঁইয়া আরও অভিযোগ করেন যে, পরিবেশ রক্ষা বা অন্য কোনো বিষয়ে যাঁরা সরকারের নীতির প্রতিবাদ জানাতে আসেন, তাঁদের প্রায়শই অপরাধীর মতো সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দিনের পর দিন, কখনো ৩০ থেকে ৪০ দিন তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর ফলে তাঁদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এছাড়া, গুলফিশা মামলা সহ বিভিন্ন সাম্প্রতিক বিচার প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে আদালত জামিন মঞ্জুর করলেও এমন কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেয় (যেমন—পাসপোর্ট জমা রাখা, কোনো জনসভায় ভাষণ না দেওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো মন্তব্য না করা), যা আদতে নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারকে কোণঠাসা করে দেয়। বিচারপতির এই সপাট ও দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য বর্তমানে দেশের আইন ও বিচার মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।