এই স্থানে আজও পৌঁছায়নি কলিযুগ! ভারতের এমন কোন জায়গা যা অভিশাপমুক্ত?

হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, কলিযুগ অধর্ম, লোভ ও অশুভ শক্তির কাল। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলায় গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত ‘নৈমিষারণ্য’ এমন এক স্থান, যা হাজার বছর ধরে কলিযুগের প্রভাব থেকে মুক্ত। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, কলিযুগের সূচনা নিয়ে ঋষিরা চিন্তিত হয়ে ব্রহ্মা ঠাকুরের শরণাপন্ন হন। তখন ব্রহ্মা তাঁর ‘মনোময় চক্র’ ছেড়ে বলেন, যেখানে এই চক্র থামবে, সেই স্থানই হবে কলিযুগের অভিশাপমুক্ত তপোভূমি। সেই চক্র নৈমিষারণ্যে এসে থেমেছিল।

তৈত্তিরীয় উপনিষদ ও মহাভারতে এই স্থানের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। নৈমিষারণ্যকে হিন্দুদের প্রধান ও প্রথম পবিত্র তীর্থ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এখানে ৩৩ কোটি দেবী-দেবতার নিবাস। চার ধাম যাত্রার পূর্ণতা লাভের জন্য নৈমিষারণ্যের দর্শন অপরিহার্য। ৮৮ হাজার ঋষির সাধনার এই তপোভূমিতেই ঋষি দধিচি জনকল্যাণে নিজের অস্থি দান করেছিলেন এবং ভগবান শ্রীরামচন্দ্র অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন।

এই তীর্থের ‘৮৪ কোশ পরিক্রমা’ অত্যন্ত বিখ্যাত, যা প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের অমাবস্যার পর শুরু হয়। এখানকার ললিতা দেবী মন্দির, হনুমান গড়ি, ব্যাস গদ্দি ও চক্রতীর্থ ভক্তদের জন্য পরম পবিত্র স্থান। কথিত আছে, এখানে ১২ বছর কঠোর তপস্যা করলে মোক্ষ বা ব্রহ্মলোক লাভ হয়। আজও লক্ষাধিক ভক্ত কলিযুগের জঞ্জাল থেকে মুক্তি পেতে এই পবিত্র ভূমিতে ছুটে আসেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy