বিশ্ব দাবা সংস্থায় বিরাট ইতিহাস ভারতের! ফিডের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হলেন কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ!

গত শতাব্দীর নয়ের দশকে ভারতীয় দাবা জগতের একচ্ছত্র সম্রাট তথা দেশের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন বিশ্বনাথন আনন্দ। যদিও পেশাদার দাবাড়ু হিসেবে ৬৪ খোপের লড়াইয়ে তাঁকে এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না, তবুও ভারতীয় দাবার এই জীবন্ত কিংবদন্তি এখনও বিশ্ব দাবা সংস্থার সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। আর এবার আন্তর্জাতিক দাবা সংস্থা বা ফিডে (FIDE)-র অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের মুকুটে যোগ করলেন এক ঐতিহাসিক নতুন feather।

কেন এই বড় পরিবর্তন?

আন্তর্জাতিক দাবা সংস্থার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আর্কাডি ডরকোভিচের (Arkady Dvorkovich) উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (European Union)। মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘোষিত ইইউ-এর সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ফিডে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি এই সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে।

ইইউ-এর অভিযোগ, ডরকোভিচ তাঁর ফিডে প্রেসিডেন্টের পদকে ব্যবহার করে রুশ সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর উপর এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

কী বললেন বিশ্বনাথন আনন্দ?

ডরকোভিচের ডেপুটি ও সহকারী হিসেবে এতদিন দায়িত্ব পালন করছিলেন আনন্দ। ২০২২ সালের ফিডে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডরকোভিচের পুনর্নির্বাচনের পক্ষেও জোরালো সমর্থন ছিল তাঁর। পরবর্তীতে চেন্নাইয়ের মহাবলিপুরম দাবা অলিম্পিয়াড চলাকালীন অনুষ্ঠিত ফিডে কংগ্রেসে আনন্দকে সর্বসম্মতভাবে ডেপুটি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল।

নতুন এই বিশাল দায়িত্ব পাওয়ার পর বিশ্বনাথন আনন্দ তাঁর ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডলে লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট আর্কাডি ডরকোভিচ তাঁর দায়িত্ব পালন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবং ফিডে-র নিয়ম ও সনদ অনুযায়ী আমি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। ফিডে-র স্বার্থ ও স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আমি আর্কাডিকে ধন্যবাদ জানাই। ফিডে কাউন্সিল, প্রশাসন এবং আমাদের সদস্য ফেডারেশনগুলির সঙ্গে একযোগে আমার মূল লক্ষ্য হবে সংস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিশ্ব দাবা পরিবারের সেবা করা।” তিনি আরও যোগ করেন, ফিডে-র কার্যক্রম অত্যন্ত মসৃণভাবে অব্যাহত থাকবে। আর্কাডি একটি শক্তিশালী দল ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য তৈরি করে গেছেন, আর সেই কাজকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন তাঁদের সকলের যৌথ দায়িত্ব। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তথা ভারতের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার বিশ্বনাথন আনন্দের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রতিটি ভারতবাসীর কাছেই অত্যন্ত গর্বের বিষয়।