যন্তরমন্তরে চতুর্থ বউ খুঁজতে গেছেন আমির খান! ভাইরাল পোস্টের নেপথ্যে আসল সত্যিটা জানলে চমকে যাবেন!

সম্প্রতি দিল্লির যন্তরমন্তরে হওয়া উত্তাল ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন পোস্ট অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ভাইরাল হয়েছে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা আমির খান নাকি স্বয়ং যন্তরমন্তরে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন। আর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়ে যায় তীব্র ট্রোলিং। নেটিজেনদের একাংশ অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন টেনে এনে কটাক্ষ করে লেখেন, “উনি কি তবে চতুর্থ বউ খুঁজতে সেখানে গেছেন?” তবে এই ভাইরাল দাবির সঙ্গে বাস্তবের দূরদূরান্তেও কোনো মিল নেই।
ভাইরাল দাবির পেছনের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা দুর্নীতির অভিযোগে দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্রসমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন শুরু হয়। ঠিক একই সময়ে লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলনও দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। সেই সমস্ত আন্দোলনকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল উত্তপ্ত, তখনই আমির খানকে নিয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মিম সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এর আগেও সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে অতীতে একটি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন আমির খান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর জনপ্রিয় চরিত্র ‘র্যাঞ্চো’-র আসল অনুপ্রেরণা সোনম ওয়াংচুক নন। যদিও পরবর্তী সময়ে ছবির পরিচালক রাজকুমার হিরানি স্পষ্ট জানান যে, লাদাখে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল এবং র্যাঞ্চো চরিত্রটি গঠনে ওয়াংচুকের ব্যক্তিত্ব ও জীবনদর্শনের কিছুটা প্রভাব সত্যিই ছিল। এরপর থেকেই একশ্রেণির মানুষের অভিযোগ ছিল যে, আমির খান ইচ্ছে করেই সোনম ওয়াংচুকের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করছেন।
আসল সত্যিটা কী?
পুরনো সেই বিতর্কের রেশ ধরেই সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের আবহে যন্তরমন্তরে আমির খানের উপস্থিতি নিয়ে এই ভুয়ো পোস্টটি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু কড়া তথ্য যাচাই (Fact Check) করে পরিষ্কার জানা গিয়েছে যে, অভিনেতা আমির খান স্বশরীরে যন্তরমন্তরের ছাত্র আন্দোলনে একবারের জন্যও যাননি। এমনকি এই আন্দোলন বা বিক্ষোভ নিয়ে প্রকাশ্যে তিনি কোনো মন্তব্যও করেননি। ফলে তাঁর নামে সমাজমাধ্যমে প্রচারিত এই পোস্টটি একশো শতাংশ ভুয়ো এবং সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে যেকোনো জনপ্রিয় ও হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ভেক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া একশ্রেণির মানুষের অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের কোনো ভিত্তিহীন দাবি বা পোস্ট চোখে পড়লে, তা অন্ধভাবে বিশ্বাস বা শেয়ার না করে সবসময় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমির খানকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া এই ঘটনাও কেবল অভিনেতাকে কটাক্ষ করার একটি অপচেষ্টা মাত্র।