বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে আগামী শনিবার। সকাল ১০টায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক মেগা অনুষ্ঠানে শপথ নেবেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী থাকতে তিলোত্তমায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উপস্থিত থাকবেন এনডিএ শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও।
নবান্ন নয়, গন্তব্য রাইটার্স: নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক বার্তা শপথ নেওয়ার ঠিক পরেই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। রাজভবন বা নবান্ন নয়, তাঁর প্রথম গন্তব্য হতে চলেছে লালদিঘির পাড়ের সেই ঐতিহাসিক ‘রাইটার্স বিল্ডিং’ বা মহাকরণ। ২০১৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে যা কার্যত জৌলুস হারিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘নবান্ন’ নামটি গত এক দশকের তৃণমূল শাসনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সেই চ্যাপ্টার বন্ধ করে মহাকরণে ফেরার মাধ্যমে এক নতুন প্রশাসনিক সূচনার বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি।
পুরো মহাকরণ কি এখনই প্রস্তুত? বিজেপির এই পরিকল্পনা যতটা প্রতীকী, পরিকাঠামোগতভাবে ততটাই চ্যালেঞ্জিং। পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারের কাজ এখনও অনেকটা বাকি। মূল ভবনের মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূর্ণ পরিকাঠামো ঠিক করতে আরও অন্তত ৬ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে। নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব থাকায় মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা এখনই সেখানে স্থায়ীভাবে বসতে পারবেন না।
অস্থায়ী ঠিকানা এবং ঐতিহাসিক কাকতালীয় আপাতত ঠিক হয়েছে, শপথের পর মুখ্যমন্ত্রী রাইটার্সে গিয়ে প্রতীকীভাবে কিছু সময় অতিবাহিত করবেন। এরপর তিনি যাবেন বিধানসভার অ্যানেক্স ভবনে, যা আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সেখানেই বসবে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক।
উল্লেখ্য, আগামী ৮ মে সন্ধ্যার মধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “রাইটার্সে ফেরার বিষয়টি আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রীই।” রবীন্দ্রজয়ন্তীর আবহে সরকার গঠনের মাধ্যমে বিজেপি মূলত বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিতে চাইছে।
১০ বছর পর আবারও কি মহাকরণের সেই ব্যস্ততা ফিরে আসবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।





