বাংলায় নতুন সরকারের শপথগ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি, আর তার আগেই এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডে কেঁপে উঠল উত্তর ২৪ পরগণার মধ্যমগ্রাম। বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ও আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিআইডি (CID), আইবি (IB) এবং এসটিএফ (STF)-এর সমন্বয়ে গঠিত ‘সিট’ (SIT) তদন্ত শুরু করেছে।
হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক টাইমলাইন: কী ঘটেছিল সেই রাতে?
ঘটনার সময়: বুধবার রাত ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে। মধ্যমগ্রামের ‘শুভম গার্ডেনিয়া’ আবাসনের ঠিক সামনেই ঘটে এই নৃশংস ঘটনা।
অপারেশন ব্লু-প্রিন্ট: চন্দ্রনাথবাবু যখন নিজের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন, তখন একটি চারচাকা গাড়ি আড়াআড়িভাবে রাস্তা আটকে তাঁর গতিরোধ করে। মুহূর্তের মধ্যে দুটি মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা গাড়ির দুই দিক ঘিরে ফেলে।
খুন নিশ্চিত করতে জানলায় গুলি: পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুষ্কৃতীরা জানলার কাচে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালায়। প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়, যার মধ্যে ৩টি চন্দ্রনাথবাবুর শরীরে লাগে। গুলিতে গুরুতর আহত হন তাঁর চালক বুদ্ধদেব বেড়াও।
হাসপাতালে মৃত্যু: আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়েই রাতেই হাসপাতালে ছোটেন শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা।
ষড়যন্ত্রের গন্ধ: কেন খুন হলেন চন্দ্রনাথ? শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত হওয়ার কারণে চন্দ্রনাথের কাছে বালি চুরি সহ তৃণমূল জমানার একাধিক ‘বেআইনি’ কাজের গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল বলে দাবি করছে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে সেই সমস্ত নথি প্রকাশ্যে আসার ভয়েই কি তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো? প্রমাণ লোপাট করতেই কি এই ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’? পরিবারের এই অভিযোগ এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
শুভেন্দুর তোপ ও পুলিশের পদক্ষেপ: শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে ‘ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত খুন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, গত কয়েক দিন ধরে একটি ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ি এলাকা রেইকি করছিল। বারাসাত পুলিশ সুপার পুষ্পা জানিয়েছেন, খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে স্থানীয় ৩ জন দুষ্কৃতীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তে সিট (SIT): রাজ্য পুলিশের ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ময়নাতদন্ত করছে। সিআইডি আইজি-র নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ দল খতিয়ে দেখছে, খুনিরা রাজারহাট হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে পালিয়েছে কি না।
শপথের প্রাক্কালে এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “পুলিশ সব পারে, আশা করি দ্রুত বিচার হবে।” এখন দেখার, এই খুনের নেপথ্যে থাকা ‘মাস্টারমাইন্ড’দের মুখোশ কত দ্রুত খোলে প্রশাসন।





