খাস কলকাতায় ঢোকার মুখেই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ যে তথ্য পেয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার এবং সুপরিকল্পিত একটি ‘প্রফেশনাল হিট’।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব মোড়। জানা গেছে, আততায়ীরা একটি স্করপিও গাড়িতে করে এসে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই খুনের অভিযানে যে চারচাকা গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছে, তার নম্বর প্লেটটি ছিল জাল। কিছুদিন আগে উইলিয়াম জোসেফ নামে এক ব্যক্তি ওএলএক্স (OLX)-এ তাঁর গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই বিজ্ঞাপন থেকেই গাড়ির নম্বর ও তথ্য সংগ্রহ করে আততায়ীরা একটি একই রঙের গাড়িতে সেই ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগিয়েছিল। এমনকি পুলিশের চোখে ধুলো দিতে গাড়ির বনেট, দরজা ও অন্যান্য অংশে থাকা চ্যাসিস নম্বর পর্যন্ত ঘষে মুছে ফেলা হয়েছে।
রাজ্যের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, এই খুনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত চ্যাসিস নম্বর যাচাই করার জন্য যে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, সে সম্পর্কেও জ্ঞান ছিল দুষ্কৃতীদের। তাই প্রমাণ লোপাটের জন্য তারা চ্যাসিস নম্বর সম্পূর্ণ বিকৃত করার চেষ্টা করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিট নাগাদ দোলতলার সাহারা ব্রিজের কাছে সন্দেহভাজন গাড়িটিকে দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ, দীর্ঘক্ষণ ধরেই তারা চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে খবর, স্করপিও গাড়ি থেকে নেমে তিন-চারজন আতায়ী গুলি চালায়। পালানোর জন্য পাশে একটি বাইকও আগে থেকে তৈরি রাখা হয়েছিল। খুনের পর বাইকে চেপেই চম্পট দেয় তারা। ইতিমধ্যেই এই খুনের রহস্যভেদে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। বারাসাত, মধ্যমগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের আপ্তসহায়ক খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো কারণ আছে নাকি অন্য কোনো শত্রুতা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে এই নিখুঁত অপারেশন দেখে পুলিশের অনুমান, এর পেছনে কোনো বড়সড় মাথা এবং পেশাদার গ্যাংয়ের হাত রয়েছে।





