রান্নার গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য এবার অত্যন্ত কড়া বার্তা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। এতদিন অনেক বাড়িতেই ব্যাক-আপ হিসেবে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের পাশাপাশি পাইপলাইন বা পিএনজি (PNG) সংযোগ রাখা হতো। কিন্তু কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে একই বাড়িতে এই দুই ধরনের সংযোগ আর রাখা যাবে না। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনো বাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ থাকে, তবে সেই গ্রাহককে দ্রুত তাঁর এলপিজি কানেকশন সারেন্ডার বা বন্ধ করে দিতে হবে।
ইতিমধ্যেই দেশের তেল সংস্থাগুলোকে এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ পাঠিয়েছে কেন্দ্র। নয়া এই আইন অনুযায়ী, যে সমস্ত পরিবারে পিএনজি চালু রয়েছে, তারা আর এলপিজি সিলিন্ডার রিফিল করতে পারবেন না। এমনকি নতুন করে রান্নার গ্যাসের সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রেও পিএনজি গ্রাহকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি বড়সড় জরিমানাও করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত জ্বালানি সঙ্কট এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ভারত সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের রান্নার গ্যাসের একটি বড় অংশই আমদানি করা হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমদানি করা এলপিজি-র ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় স্তরে স্থিতিশীল পিএনজি-কে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে সরকার।
পিএনজি-র সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্রাহকের রান্নাঘরে পৌঁছে যায়, যার ফলে সিলিন্ডার পরিবহন বা কালোবাজারির কোনো ঝক্কি থাকে না। এর ফলে পরিষেবা যেমন স্থিতিশীল থাকে, তেমনই সাশ্রয় হয় পরিবহণ খরচও।
ইতিমধ্যেই গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলো ডবল কানেকশন থাকা পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। অনেক গ্রাহকের কাছেই সিলিন্ডার জমা দেওয়ার নোটিশ পৌঁছে গিয়েছে। আপনিও যদি দুটি সংযোগই ব্যবহার করে থাকেন, তবে তড়িঘড়ি ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) আপডেট করে নিন। মনে রাখবেন, সময়মতো নিয়ম না মানলে কেবল সিলিন্ডার সংযোগ বিচ্ছিন্নই নয়, বড় আইনি সমস্যার মুখেও পড়তে পারেন আপনি।





