রাশিয়ার সেবা খাতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, আর সেই টোপ গিলে স্বপ্নের দেশে পাড়ি দিতেই নেমে এল অন্ধকার। ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে লড়াই করতে বাধ্য করা হচ্ছে সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকদের। এই ভয়াবহ মানব পাচার ও প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকার এক ট্রাভেল কোম্পানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস) মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নথিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যের ‘বৈশ্বিক অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বিধিমালা ২০২৫’-এর আওতায় মোট ১৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই তালিকার ৫ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বনানীভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড’।
নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই ট্রাভেল কোম্পানিটি রাশিয়ার সেবা খাতে লোভনীয় চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফাঁদে ফেলত। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি বদলে যেত। সেখানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই ধরনের চরম শোষণ এবং প্রতারণামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র পাওয়ায় লন্ডনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির সমস্ত সম্পদ জব্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার নথিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা হিসেবে ঢাকার বনানীর একটি বাড়ির তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের দাবি, রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে ভিনদেশি নাগরিকদের যে গোপন নিয়োগ চলছে, এই কোম্পানিটি ছিল তার অন্যতম সহযোগী। মূলত অভিবাসন সংক্রান্ত বৈশ্বিক নিয়ম লঙ্ঘন এবং মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ দমনেই ব্রিটিশ সরকার এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোম্পানিটির সমস্ত লেনদেন ও কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকার এই ট্রাভেল এজেন্সির হাত ধরে কতজন বাংলাদেশি রাশিয়ার যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন, তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।





