বিশ্ব রাজনীতিতে যখন বারুদের গন্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন থেকে শুরু করে ইরান-আমেরিকা—পুরো বিশ্ব যখন যুদ্ধের দাবানলে জ্বলছে, ঠিক তখনই ভারতের জন্য এল এক চরম স্বস্তির খবর। বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা আর মুদ্রাবাজারে অস্থিরতার মাঝেই ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে (Foreign Exchange Reserve) লাগল জোয়ার। এক ধাক্কায় ভারতের রিজার্ভ বাড়ল প্রায় ৯.০৬ বিলিয়ন ডলার।
রেকর্ডের দোরগোড়ায় ভারত: ৬৯৭ বিলিয়ন পার!
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন পৌঁছে গিয়েছে ৬৯৭.১২ বিলিয়ন ডলারে। গত ২৭ মার্চ শেষ হওয়া সপ্তাহে যেখানে রিজার্ভ ১০.২৮ বিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছিল, সেখানে এই এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ানো ভারতের শক্তিশালী অর্থনীতিরই পরিচয় দিচ্ছে।
সোনা ও বিদেশি মুদ্রার রমরমা
রিজার্ভ বৃদ্ধির নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিয়েছে স্বর্ণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ (FCA)।
বিদেশি মুদ্রা সম্পদ (FCA): পাউন্ড, ইউরো এবং ইয়েনের মতো মুদ্রার ওঠানামার মধ্যেও ভারতের FCA বেড়েছে প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার।
সোনার রিজার্ভ: ভারতের সঞ্চিত সোনার ভাণ্ডারও গত সপ্তাহে ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার সমৃদ্ধ হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত প্রদান করেছে।
এসডিআর ও আইএমএফ: স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) সামান্য বেড়ে ১৮.৭০৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আইএমএফ-এ ভারতের সংরক্ষিত তহবিলের পরিমাণ ৪.৮১৬ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে।
আরও পড়ুন: অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৬: কেন এই দিনটি সবচেয়ে শুভ? সত্যিই কি খুলে যায় ভাগ্যের দরজা?
আরও পড়ুন: সাপ্তাহিক রাশিফল (১৩-১৯ এপ্রিল): সব বিভ্রান্তি কাটিয়ে উন্নতির মুখ দেখবে মেষ সহ এই ৪ রাশি!
যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ও আরবিআই-এর মাস্টারস্ট্রোক
গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রিজার্ভ রেকর্ড ৭২৮.৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতায় তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার সরাসরি সংঘাতের আবহে ভারতীয় রুপির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। টাকার দর পতন আটকাতে বাজারে ডলার বিক্রি এবং সঠিক সময়ে নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ৯ বিলিয়ন ডলারের এই বৃদ্ধি ভারতীয় অর্থনীতির জন্য ‘সঞ্জীবনী’ হিসেবে কাজ করবে। তবে বিশ্ব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এখনই আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই, প্রয়োজন সতর্ক নজরদারির।





