ডাক্তার তৈরির বদলে ‘জিহাদি ফ্যাক্টরি’! আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্ধকার দিক ফাঁস

দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ফরিদাবাদের নামী আল ফালাহ স্কুল অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-কে ঘিরে সমস্ত ধারণা নিমেষে বদলে গিয়েছে। যে প্রতিষ্ঠান এক সময় ‘সাফল্য, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ’ (আল ফালাহ শব্দের অর্থ) নিয়ে স্বপ্ন দেখাত, তা আজ ডাক্তার নয়, বরং ‘জিহাদি তৈরির কারখানা’ হিসেবে অভিযুক্ত। দিল্লি বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র এই প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসেই তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ।
আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও প্রতিষ্ঠাতা জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকি (৬১) বর্তমানে সন্ত্রাসের ছক কষার অভিযোগে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে তিহাড় জেলে বন্দি। ১৫ নভেম্বর তাঁর জন্মদিনের আগেই এই ঘটনায় তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং বিতর্কিত অতীতের দিকে সকলের নজর পড়েছে।
১৯৬৪ সালের ১৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা জাওয়াদ আম্বেদকরের জন্মস্থান মধ্যপ্রদেশে বেড়ে ওঠেন। লিঙ্কড ইন প্রোফাইল অনুসারে, তিনি ইন্দোরের আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে BTech ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়াতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন।
তাঁর এক প্রাক্তন সহকর্মী ইন্ডিয়া টুডে-কে জানিয়েছেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী জাওয়াদ জামিয়াতে অধ্যাপনার পাশাপাশি ভাই সাউদের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন এবং ছোট কোম্পানিগুলিতে বিনিয়োগ করেন, যার মধ্যে আল ফালাহ গোষ্ঠী ছিল।
কিন্তু জাওয়াদের এই সফরে উত্থানের চেয়ে পতনই বেশি। বিনিয়োগকারীদের মোটা টাকার রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০০০ সালে কে আর সিং নামে এক ব্যক্তির এফআইআর-এর ভিত্তিতে জাওয়াদকে গ্রেফতার করা হয়। দুই ভাই সেই সময় তিন বছর জেলে ছিলেন। ২০০৩ সালের মার্চ মাসে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করে। ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (FSL) রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, বিনিয়োগকারীদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এবং কিছু অচল কোম্পানির নামে টাকা তোলা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, অভিযুক্তরা সেই বিপুল অর্থ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাওয়াদ জামিন পান এবং ২০০৫ সালে পাটিয়ালা কোর্ট তাঁকে মামলা থেকে খালাস করে। তবে তার আগে তিনি ও তাঁর ভাই প্রতারিত অর্থ ফেরত দিতে রাজি হয়েছিলেন।
আল ফালাহ-এর ক্যাম্পাস: বিতর্ক ও রক্ষণশীলতা
২০১৯ সালে আল ফালাহ স্কুল অফ মেডিকেল সায়েন্সেস প্রথম ব্যাচের ডাক্তার তৈরি করলেও, ধীরে ধীরে এর পরিবেশ বদলে যায়। বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে, কলেজটি তুলনামূলক কম বেতনে ডাক্তার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে কাশ্মীর থেকে বহু চিকিৎসক নিয়োগ করতে শুরু করে। একটি সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার সুযোগ নিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ক্রমশ অত্যন্ত রক্ষণশীল হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা এই পরিবর্তন সম্পর্কে জানলেও তা উপেক্ষা করে।
দিল্লি বিস্ফোরণের পরদিন যে ডাক্তার শাহিনা সইদকে গ্রেফতার করা হয় এবং যাঁর নাম জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত, তিনি প্রায়ই সহকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের ধর্মীয়ভাবে আরও অনুগত হওয়ার জন্য উৎসাহ দিতেন। তিনি হিজাব ও বোরখা পরার পরামর্শ দিতেন বলে অভিযোগ। এই কারণে তাঁকে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছিল।
এছাড়াও, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় জীবনবিমা দাবি করায় নার্সদের বরখাস্ত করা এবং গত বছর নিম্নমানের পরিকাঠামো ও বকেয়া ভাতার প্রতিবাদ করায় মেডিক্যাল ইন্টার্নদের সাসপেন্ড করার মতো একাধিক বিতর্ক জাওয়াদের প্রতিষ্ঠানকে বারবার খবরের শিরোনামে এনেছিল। জাওয়াদ এতদিন পর্যন্ত এই সব সামলাতে পারলেও, তাঁর মেডিক্যাল কলেজের একাধিক চিকিৎসক জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় এখন আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় এনআইএ-র তীক্ষ্ণ নজরদারিতে রয়েছে।