“পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশকে বাঁচান!” ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ভারতকে সরাসরি সতর্ক করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) এক বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ভারত ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই “পাকিস্তানের মতো হাইব্রিড শাসনব্যবস্থার ফাঁদে না পড়ে”, তা নিশ্চিত করতে ভারতের ভূমিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অপরিহার্য।

‘ভারত আমাদের অটল বন্ধু’, ইউনূস সরকারের কড়া সমালোচনা

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে ভারতকে শুধু প্রতিবেশী নয়, বরং “অটল বন্ধু” ও “গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার প্রধান অংশীদার” হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর সরাসরি বার্তা: “আমরা শুধু চাই, ভারত যেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে সমর্থন করে—যাতে তারা নিজেদের সরকার নিজেরাই বেছে নিতে পারে। ভারতের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত নড়বড়ে হয়ে যাবে।”

তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার “অদক্ষ, অভিজ্ঞতাহীন এবং বিপজ্জনকভাবে চরমপন্থীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।” হাসিনার কথায়, “ইউনূসের ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমস্যা আমার কারণে নয়, বরং ওর নিজের নীতিগত ব্যর্থতার ফল। ওরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে পারেনি, বরং সরকার থেকেই ভারতবিরোধী মনোভাব উস্কে দেওয়া হচ্ছে।”

‘জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে নিয়ন্ত্রণ’, ইউনূস ছদ্মনামধারী নেতা!

ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরও ভারত তাঁর প্রতি যে কূটনৈতিক সহানুভূতি দেখিয়েছে, তার প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। তিনি ভারতীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, “ভারত কখনও আমাকে বোঝা হিসেবে দেখেনি, বরং তারা জানে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা মানেই আঞ্চলিক শান্তি।”

সাক্ষাৎকারে হাসিনা আরও সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন ক্রমেই এক বিপজ্জনক মোড়ের দিকে এগোচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, “মহম্মদ ইউনূস আসলে এক ছদ্মনামধারী নেতা, যার সরকারের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে হিযবুত তাহরীরের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে।” তিনি ভারত ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিকে আহ্বান জানান, যেন তারা বাংলাদেশের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখে এবং একটি “মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক” নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নেয়।

‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ভারতের নৈতিক দায়িত্ব’

শেখ হাসিনা মনে করেন, আওয়ামী লীগ আজও বাংলাদেশের সমাজের গভীরে প্রোথিত এবং এই দলকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, “বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক নয়, এটি ইতিহাস, রক্ত ও বিশ্বাসের সম্পর্ক। এই বন্ধন হৃদয়ের বন্ধন।”

সাক্ষাৎকারের শেষে তাঁর শেষ বার্তা, “ভারত যদি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়, তবে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পাশে দাঁড়াতে হবে। ভারতই আমাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কণ্ঠ।”