নন্দীগ্রাম ‘দখলে’ মাস্টারস্ট্রোক! শুভেন্দু গড়ে দলের কোন্দল মেটাতে তৃণমূলের ৭ ও ৫ সদস্যের ‘কোর কমিটি’

বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রামের সাংগঠনিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে বড়সড় রদবদল আনল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে শাসকদলের ভোটব্যাঙ্কে যে প্রভাব পড়েছিল, সে কথা মাথায় রেখে এবার নন্দীগ্রাম বিধানসভার দুটি ব্লক থেকেই সভাপতি পদ তুলে দেওয়া হলো। দুই ব্লকের বিবদমান গোষ্ঠীগুলির নেতাদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে কোর কমিটি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই পদক্ষেপ মূলত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করেই নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খুব শীঘ্রই নন্দীগ্রাম নিয়ে আলাদা করে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন এবং একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচী নিতে চলেছেন।
কোর কমিটিতে কারা?
নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লক: পূর্বতন সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গকে সরিয়ে সাত সদস্যের কোর কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটিতে রাখা হয়েছে শেখ সুফিয়ান, অজয় কুমার মণ্ডল, শামসুল ইসলাম, সুহাসিনী কর, আলরাজি এবং শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বাপ্পাদিত্য গর্গকেও। উভয় পক্ষের নেতৃত্বদের সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যেই এই কমিটি।
নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লক: পাঁচজনের কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক (কনভেনার) করা হয়েছে সুনীল বরণ জানাকে। কমিটিতে মনোজ কুমার সামন্ত, রবিন জানা, মহাদেব বাগ এবং শেখ কাজিহারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একুশের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের এই নেতৃত্বহীনতা এবং কোন্দল মেটানোর বহু চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই শীর্ষ নেতৃত্ব এই কৌশল নিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ব্লক স্তরের এই সাংগঠনিক রদবদলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটিয়ে হারানো জমি ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তৃণমূল নেতৃত্ব।