বিস্ফোরণের মাত্রা ‘সীমিত’ কেন? ৩০০০ কেজি বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত হতেই আতঙ্কিত জঙ্গিরা, দুর্ঘটনাবশতই ঘটেছে লালকেল্লা হামলা!

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ফিদায়েঁ হামলা ছিল না, বরং জঙ্গি ডাক্তার উমর নবী ও তার সঙ্গীদের তাড়াহুড়ো এবং আতঙ্কের ফল— এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্টে। গোয়েন্দাদের অনুমান, জঙ্গিদের মূল পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছিল ফরিদাবাদে ভাড়া বাড়িতে মজুত প্রায় ৩০০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর।
গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, লালকেল্লায় ব্যবহৃত বিস্ফোরকটি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না, তাই এর মাত্রা ছিল ‘সীমিত’। এতে কোনো ‘শার্প নেল’ (Sharp Nail) না মেলায় তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে, সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর জন্য এটি তৈরি করা হয়নি। যদি এটি পূর্ণমাত্রায় প্রস্তুত করা যেত, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারত।
মূল পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার কারণ: কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, দেশজুড়ে জঙ্গি ডাক্তারদের মডিউলের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হওয়ায় উমর নবী ও তার সঙ্গী জঙ্গিরা চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দিল্লি-এনসিআর এবং ফরিদাবাদ থেকে সঙ্গীরা গ্রেফতার হওয়ার পর ধরা পড়ার ভয়ে উমর দ্রুত বিস্ফোরকভর্তি গাড়িটি অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। এই তাড়াহুড়োর মধ্যেই চলন্ত ও ধীর গতির গাড়িটিতে দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে যায়।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সুইসাইড মিশনে সাধারণত এমন ধীর গতি বা তাড়াহুড়ো লক্ষ্য করা যায় না, যা দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণের দিকেই ইঙ্গিত করছে। সব মিলিয়ে, তদন্তকারীরা মনে করছেন যে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের লাগাতার অভিযানে জঙ্গিদের আরও বড় কোনো হামলার ছক এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে বিস্ফোরক নিয়ে উমরের শেষ পরিকল্পনা কী ছিল এবং তার অন্যান্য ‘লিঙ্ক’ কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে এখনও তদন্ত পুরোদমে জারি রয়েছে।