“রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত কাজ করছি, খাবার খাওয়া ভুলে গেছি!” ডিএম-এর সামনে কেঁদে ফেললেন ‘চ্যাম্পিয়ন’ বিএলও

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে শর্ট এনকোয়ারি রোল (SIR)-এর জন্য বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম বিলি করতে গিয়ে কাজের চরম চাপ ও মানসিক পীড়নের মুখে পড়েছেন বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে জেলাশাসক এস পোন্নাবলম-এর সামনে নিজের অসহনীয় চাপের কথা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক মহিলা বিএলও। তাঁর কাজের নিষ্ঠা দেখে অবশ্য তাঁকে “চ্যাম্পিয়ন বিএলও” আখ্যা দিয়েছেন মহকুমাশাসক।
পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল মহকুমার বারাবনি বিধানসভার সালানপুর ব্লকের রূপনারায়ণপুর ৬৭ নম্বর বুথের বিএলও হলেন শ্যামলী মণ্ডল। তিনি পেশায় আইসিডিএস কেন্দ্রের কর্মী। নির্বাচন কমিশনের ফর্ম বিলির জন্য আট দিনের সময়সীমার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে তাঁর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সালানপুরের রূপনারায়ণপুরে ‘পাড়ায় সমাধান’ কর্মসূচিতে এসে জেলাশাসক এস পোন্নাবলম ও মহকুমাশাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য শ্যামলী মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলেন। জেলাশাসক যখন জানতে চান, “১৪০০-র মধ্যে কতজনকে ফর্ম দিতে পেরেছেন?” তখন শ্যামলী জানান, তিনি ইতিমধ্যেই ১১০০ জনকে ফর্ম দিয়েছেন। তাঁর এই কাজের প্রশংসা করে জেলাশাসক ‘দারুণ কাজ করেছেন’ বলে অভিবাদন জানান, আর মহকুমাশাসক তাঁকে “চ্যাম্পিয়ন বিএলও” বলে স্বীকৃতি দেন।
প্রশংসা পেয়েও শ্যামলী মণ্ডল কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। খাবার খাওয়া ভুলে গিয়েছি।” আইসিডিএস কেন্দ্রের কাজের পাশাপাশি বিএলও-র দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি চরম কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এ নিয়ে সুপারভাইজারদের কাছ থেকেও চাপ আসছে।
যদিও বিএলও-র দায়িত্ব পালনের সময় অন্য দায়িত্ব পালনের কথা নয়, তবু এই বিষয়ে কোনও লিখিত নির্দেশ পাননি বলে জানান শ্যামলী। তাঁর দুর্দশা শুনে জেলাশাসক তাঁর আইসিডিএস কেন্দ্রের বিস্তারিত তথ্য নোট করতে বলেন এবং তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, ফর্ম বিলির সময়সীমা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। জেলাশাসকের এই আশ্বাসে অবশেষে ওই মহিলা বিএলও-র মুখে হাসি ফোঁটে।