বাইরে থেকে ঘরে ফিরে কিংবা গোসলের সময় হাতের কাছে থাকা সাবান দিয়েই মুখ ধুয়ে নেওয়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে এই সাধারণ অভ্যাসটি আপনার ত্বকের কতটা ক্ষতি করছে, তা কি আপনি জানেন?
এ বিষয়ে দিল্লির ডিরেক্টর স্কিনেশন ক্লিনিকের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. স্বাতি আগরওয়াল সতর্ক করে জানিয়েছেন, ত্বকে সাবান ব্যবহারের আগে দু’বার ভাবা উচিত। বিশেষ করে সুগন্ধিযুক্ত সাবান মুখের ত্বকসহ শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকেরও মারাত্মক ক্ষতি করে।
ত্বকের উপর সাবানের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. প্রয়োজনীয় লিপিড অপসারণ: সাবান ত্বকের কোষ থেকে প্রাকৃতিক এবং উপকারী লিপিড বের করে নেয়, যা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়।
২. পিএইচ ভারসাম্যহীনতা: সাবান ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ মাত্রায় পরিবর্তন ঘটায়। আমাদের ত্বকের আদর্শ শারীরবৃত্তীয় পিএইচ হলো ৫.৫, যা ত্বকের প্রতিরক্ষামূলক অ্যাসিড ম্যান্টেল হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, সাবানের ক্ষারীয় পিএইচ ৯ পর্যন্ত হতে পারে। এই উচ্চ পিএইচ ত্বকের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং ত্বকের উপরের স্তরের এনজাইমের কার্যকারিতা পরিবর্তন করে, যা ত্বককে আরও শুষ্ক ও রুক্ষ করে তোলে।
৩. ত্বকের উপরিভাগের ক্ষতি: সাবান ব্যবহারের কারণে ত্বকের উপরের স্তর অতিরিক্ত হাইপার-হাইড্রেট হয়ে যায় এবং ত্বকের বিল্ডিং ব্লক অর্থাৎ কেরাটিনোসাইটের ক্ষতি করে। এছাড়াও, ত্বকের কোষ ও কোলাজেন ফাইবার ফুলে যায়, যা ত্বকের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে।
৪. কেরাটিন প্রোটিনের বিকাশ: সাবান ব্যবহারের ফলে ত্বকের কেরাটিন প্রোটিনের অস্বাভাবিক বিকাশ ঘটে। এর ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায় এবং ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে ওঠে।
এইসব ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ত্বকের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলস্বরূপ ত্বক আরও রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। তাই মুখ ধোয়ার সময় অবশ্যই ভালো মানের ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। মুখ ধোয়ার জন্য উপযুক্ত পিএইচ মাত্রা হলো ৫.৫।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতিদিন দুবার ভালো মানের ও ত্বক উপযোগী ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের ময়লা দূর হয়। দিনের বেলায় ত্বকে জমা হওয়া দূষণকারী উপাদান, মেকআপ, তেল এবং অন্যান্য জীবাণু ফেসওয়াশ ব্যবহারের মাধ্যমেই পরিষ্কার করা সম্ভব। তাই ত্বকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাবানের পরিবর্তে সঠিক পিএইচ মাত্রার ফেসওয়াশ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।





