কাগজের কাপে চা খাচ্ছেন? অজান্তেই শরীরে ঢুকছে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান! আইআইটির গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

চা ছাড়া বাঙালি জীবন ভাবাই যায় না। শীতের সন্ধ্যায় অফিস ফেরত ক্লান্ত মানুষ হোক কিংবা পাড়ার মোড়ের আড্ডায় মশগুল জনতা, হাতে এক কাপ চা থাকা চাই-ই চাই। একসময় এই চায়ের পাত্র ছিল মাটির ভাঁড়। তবে বিশ্বায়নের যুগে সেই মাটির ভাঁড়, চিনামাটির কাপ, কাঁচের গ্লাসকে সরিয়ে এখন তার স্থান নিয়েছে প্লাস্টিক অথবা কাগজের কাপ। আর এর ফলস্বরূপ, আমরা অজান্তেই আরামের ‘সুরুত চুমুকের’ সাথে শরীরে প্রবেশ করাচ্ছি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কারসিনোজেনিক উপাদান। খড়্গপুর আইআইটির গবেষক দলের সাম্প্রতিক গবেষণায় এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
আইআইটির অধ্যাপক ও গবেষক সুধা গোয়েল এই বিষয়ে বলেছেন, খরচ কমানোর জন্য এবং দ্রুত ধোয়া-মোছার সুবিধার জন্য বেশিরভাগ চায়ের দোকানেই কাগজের কাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। আর সচেতনতার অভাবে সেই কাপ থেকে শরীরে প্রবেশ করা ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাবে মুখ ও গলার ক্যান্সারের প্রবণতা বাড়ছে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, প্লাস্টিকের এই কাপে থাকে টক্সিক বিসফেল নামক উপাদান, যা মুখ ও গলার ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। এই বিষ সরাসরি মানবদেহের অন্ত্রে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যাচ্ছে এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোষে কোষে ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু ক্যান্সারই নয়, অতিরিক্ত পরিমাণে পলিইথিলিন কণা শরীরে জমা হলে তা পুরুষদের শুক্রাণু উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে এই উপাদান। এছাড়াও, এই টক্সিন ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ ও কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, অবিলম্বে এই ধরনের কাপের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। পরিবেশবান্ধব উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া উচিত। সমীক্ষা অনুযায়ী, আগামীতে ভারতে ক্যান্সারের প্রকোপ ১২% বৃদ্ধি পেতে পারে। এই গবেষণার ফলাফল যেন এক আগাম অশনি সংকেত দিচ্ছে। তাই সময় থাকতে সচেতন না হলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।