মিনিমাম বেসিক পে সোজা ৬৮,৯৪০ টাকা? অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) লাগু হওয়া নিয়ে দেশজুড়ে ১ কোটিরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের কৌতূহল এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কর্মচারী ইউনিয়নগুলি সরকারের কাছে তাঁদের মূল দাবিপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই জল্পনা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ (Fitment Factor) বৃদ্ধি। ইউনিয়নগুলির দাবি পুরোপুরি মেনে নেওয়া হলে কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন (Basic Pay) এক লাফে প্রায় ৫১,০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর আসলে কী? খুব সহজে বুঝে নিন

সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধন বা কারেকশনের জন্য যে বিশেষ গুণক বা সংখ্যা ব্যবহার করা হয়, তাকেই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বলা হয়। সহজ কথায়, পুরনো মূল বেতনকে নতুন মূল বেতনে রূপান্তর করতে যে নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে গুণ করা হয়, সেটাই এই ফ্যাক্টর।

  • হিসাবের নিয়ম: নতুন বেসিক পে = বর্তমান বেসিক পে × ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর

  • সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর রয়েছে, যার জেরে ন্যূনতম মূল বেতন দাঁড়িয়েছিল ১৮,০০০ টাকা।

ইউনিয়নগুলির দাবি ও বেতনের অঙ্ক

অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে কর্মচারী ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়িয়ে ৩.৮৩ করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। যদি কেন্দ্র এই দাবিতে সবুজ সংকেত দেয়, তবে হিসাবটি কেমন দাঁড়াবে দেখে নেওয়া যাক:

  • বর্তমান ন্যূনতম বেসিক পে: ১৮,০০০ টাকা

  • কর্মীদের দাবি করা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: ৩.৮৩

  • নতুন সম্ভাব্য ন্যূনতম বেসিক পে: ১৮,০০০ × ৩.৮৩ = ৬৮,৯৪০ টাকা (প্রায় ৬৯,০০০ টাকা)

এর ফলে কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে সরাসরি প্রায় ৬৯,০০০ টাকা হয়ে যাবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র বেসিক পে-ই এক ধাক্কায় ৫১,০০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি পাবে। শুধু তাই নয়, বেসিক পে বাড়লে তার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মহার্ঘ ভাতা (DA), বাড়িভাড়া ভাতা (HRA) এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) পরিমাণও বহুলাংশে বেড়ে যাবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও সরকারের অবস্থান

এই ইস্যুটি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরকার ও বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের মধ্যে দফায় দফায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলির জোরালো যুক্তি, বিগত কয়েক বছরে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি যেভাবে আকাশছোঁয়া হয়েছে, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আর্থিক চাপ কমাতে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩ করা অত্যন্ত জরুরি।

তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হুবহু কার্যকর করা কেন্দ্রের পক্ষে বেশ বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ এর ফলে সরকারের রাজকোষে বেতনের বোঝা কয়েক হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাবে। সেই কারণে সমস্ত দিক পর্যালোচনা করে একটি মাঝামাঝি বা মধ্যপন্থার ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর স্থির করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হওয়ার পর তা মন্ত্রিগোষ্ঠীর (GoM) টেবিলে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত মিললেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।