‘৫ ওয়াটের বাল্ব হ্যালোজেন হয়েছে!’—ঋতব্রত শিবিরকে তোপ দাগলেন অভিষেক

বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে একুশের শহিদ স্মরণসভার মঞ্চ থেকে ঠিক সেই পুরোনো, আগ্রাসী ও ঝাঁঝালো মেজাজেই বিরোধীদের আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিषेक বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশি হেনস্থা ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে কর্মীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিজেপিকে বাংলা থেকে উৎখাত করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি।

‘নোটবুকে সব লিখে রাখুন, সঠিক জবাব দেওয়া হবে’

এদিনের সভা থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হয়ে অভিষেক বলেন,

“পুলিশ যাঁদের অযথা মিথ্যে মামলায় অত্যাচারিত করছে, আমি বলব ধৈর্য ধরুন। একটা ছোট নোটবুক পকেটে রাখবেন। সব লিখে রাখবেন। এই নোটবুকগুলো এক এক করে ঠিক নিয়ে নেব। যাঁরা যে ভাষায় বোঝে, তাঁদের সেই ভাষাতেই উত্তর দেওয়া হবে…”

এরপর বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ঘর-বাড়ি বা পার্টি অফিস ভেঙে দিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না। প্রয়োজনে ফুটপাথে রাত কাটাবেন, তবুও বাংলা থেকে বিজেপিকে হারিয়ে তবেই ছাড়বেন বলে স্পষ্ট প্রতিজ্ঞা করেন তিনি।

একুশে জুলাই আটকাতে পারার আস্ফালনকে কটাক্ষ

এদিন বিজেপি এবং বিরোধী শিবিরকে একযোগে আক্রমণ করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “বিজেপির সরকার একুশে জুলাই আটকাতে পারলেন? শুভেন্দু অধিকারী একুশে জুলাই আটকাতে পারলেন? অমিত শাহ একুশে জুলাই আটকাতে পারলেন? কলকাতা পুলিশ আটকাতে পারলেন?”

তাঁর দাবি, আজকের এই ঐতিহাসিক সমাবেশই প্রমাণ করে দিয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিকল্প এ রাজ্যে কেউ নেই। মেয়ো রোডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যত লোক জমা হয়, তার থেকে অনেক বেশি লোক জেসিপি দিয়ে মাটি কোপানোর সময় দেখা যায়। “জনতা কোথায়? কর্মী কোথায়? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে, কর্মীরা সেখানেই রয়েছে,” বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘৫ ওয়াটের বাল্ব হ্যালোজেন হয়েছে!’—ঋতব্রত শিবিরকে তোপ

দলের অন্দরের বিদ্রোহী ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন শিবিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। বিদ্রোহী নেতাদের নিশানা করে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন,

“৫ ওয়াট ১০ ওয়াটের বাল্ব ভাবছে এখন হ্যালোজেন হয়ে গিয়েছি।”

মঙ্গলবার ঋতব্রতদের ‘গদ্দার’ ও ‘বালিশ চাটা’ বলে তীব্র ভর্ৎসনা করেন অভিষেক। তিনি দলীয় নেত্রীর কাছে অনুরোধ জানান, যাঁরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁদের যেন ভবিষ্যতে আর কোনোভাবেই দলে ফিরিয়ে নেওয়া না হয়।

মামলা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি নিয়ে হুংকার

কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও আইনি প্রতিহিংসা প্রসঙ্গে অভিষেক সাফ জানিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে চমকে ধমকে লাভ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই, সিআইডি বা এসটিএফ—কে কী করল তাতে তাঁর যায় আসে না। তাঁর কথায়, “গলা যদি কেটে যায়, তাহলেও মৃতদেহর বুক থেকে ‘জয় বাংলা’ ও ‘মরমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’ স্লোগানই বেরোবে।” পরিশেষে তিনি কর্মীদের লড়াইয়ের ময়দানে প্রস্তুত থাকার ডাক দিয়ে বলেন, যাঁরা একসময়ে তৃণমূলের প্রতীকে জিতে অন্য দলে পা বাড়িয়েছেন, আগামী দিনে সেই প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় গিয়ে তাঁদের ক্ষমা চাওয়াবেন তিনি।