‘ইগো সরিয়ে সবাই এক হোন!’ একুশের মঞ্চ থেকে বাম-কংগ্রেসকে মহাজোটের বার্তা মমতার

বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনের চত্বর, দুই পাশেই কড়া ব্যারিকেড। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই ব্যারিকেডের অলিন্দে উপচে পড়ল তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে নতুন করে লড়াইয়ের ডাক দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে পরাস্ত করতে সমস্ত বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে অভিনেতা চন্দন সেনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, স্বার্থ বা অহংকার দূরে সরিয়ে রেখে সকলকে সম্মিলিতভাবে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।
বিরোধীদের এক হওয়ার বার্তা ও চন্দন সেনের প্রসঙ্গ
এদিন বেলা দেড়টা নাগাদ মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি এবং দল ছেড়ে আলাদা শিবিরের দিকে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। বিজেপিকে রুখতে বাম-কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
“আমি একজনকে অ্যাডমায়ার করছি। তিনি আমাদের দলের না হলেও একজন বিখ্যাত শিল্পী, চন্দন সেন। অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস গেরুয়া করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য আমি শুনেছি। তিনি বলেছেন এই সময় আমাদের সবাইকে একজোট হতে হবে। আমি এটিকে সমর্থন করি।”
বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বাবুল বা দোলাদের মতো সহকর্মীদের উল্লেখ করে তিনি আগেই বলেছিলেন বাংলাতেও ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট গড়ে লড়াই করতে। তাঁর সাফ কথা, কারও প্রতি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত অহংকার বা ‘ইগো’ নেই। বিরোধী দলগুলিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আজ যারা বিজেপির মদতে দলীয় অফিস খুলছেন বা মিটিং করছেন, মনে রাখবেন— তৃণমূলকে শেষ করার পর বিজেপি আপনাদেরও রেয়াত করবে না। গণতন্ত্র বাঁচাতে বিবেক জাগ্রত করে সবাইকে একজোট হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
‘নকল বেড়াল তপস্বী’—ঋতব্রত শিবিরকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ
দলের অন্দরের ভাঙন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে বিদ্রোহী নেতাদের একহাত নেন মমতা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন শিবিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন,
“নকল বেড়াল তপস্বী না হয়ে, বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান! দল না ভাঙিয়ে সোজাসুজি চলে যান, এতে আমি খুশিই হব। চোরগুলো বিজেপিতে গেছে, ওদের আর ফেরত নেব না।”
তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, দল থেকে যাঁরা চলে যাচ্ছেন, সেই খালি জায়গা পূরণের জন্য তাঁর ছাত্র ও যুব কর্মীরা পুরোপুরি প্রস্তুত। “আসল তৃণমূল আমরাই, মানুষের সমর্থন আমাদের সঙ্গে রয়েছে,” দাবি করেন তিনি।
দিল্লির আন্দোলন ও সিজিপি প্রসঙ্গ
এদিনের সভা থেকে দিল্লির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ছাত্র-আন্দোলনের ওপর পুলিশের দমনপীড়ন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে তিনি এই ধরনের প্রতিবাদী অনুষ্ঠানেও পাশে দাঁড়াতে পিছপা হবেন না।