মালদা মেডিক্যালে জলের নিচে আইসোলেশন! বৃষ্টি থামলেও চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

রাতভর দফায় দফায় অবিরাম বৃষ্টিতে ফের ভয়াবহ জলমগ্নতার শিকার হলো উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া মরশুমের প্রথম ভারী বৃষ্টির জেরে রাতের অন্ধকারে হাসপাতালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড এবং মূল ভবনের চত্বরে জল জমে যায়। এর ফলে রাতভর চরম দুর্ভোগের মধ্যে কাটাতে হয় রোগী ও তাঁদের পরিবারকে। যদিও ভোররাতের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কমলে ধীরে ধীরে জল নামতে শুরু করে, তবুও মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডের দীর্ঘ করিডর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলি জলমগ্ন অবস্থায় ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধে থেকেই মালদা শহরজুড়ে মৌসুমের প্রথম ভারী বর্ষণ শুরু হয়। সারারাত কখনো মাঝারি আবার কখনো মুষলধারে চলা এই বৃষ্টির জল সোজা ঢুকে পড়ে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অন্দরে। অভিযোগ উঠেছে, তীব্র বৃষ্টির সময় হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং মেল মেডিসিন ওয়ার্ডে জল থৈথৈ করতে শুরু করে। রাতভর হাসপাতালের মূল ভবন জলমগ্ন থাকায় রোগী এবং তাঁদের পরিজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি থামলেও দুর্ভোগের ছবিটা বদলায়নি। সকাল ৯টা বেজে গেলেও জমা জলের বুক চিরে যাতায়াত করতে বাধ্য হন রোগী, তাঁদের আত্মীয়-স্বজন, চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। হাসপাতালের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হিসেবে পরিচিত আইসোলেশন ওয়ার্ডের করিডরে তখনও জল জমে থাকায় রোগীদের স্ট্রেচার ও হুইল চেয়ারে করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যাতায়াত করাতে হয়। চিকিৎসার মতো মৌলিক পরিষেবার জায়গায় এমন বেহাল ছবি দেখে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর আত্মীয় সুবোধ সরকার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাতে যখন প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল, তখন হঠাৎ করেই হাসপাতালে জল ঢুকে পুরো ভবনটিকে জলমগ্ন করে তোলে। ভোর থেকে জল নামার প্রক্রিয়া শুরু হলেও মেল মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে জল সরলেও আইসোলেশন ওয়ার্ডে তখনও জল জমে রয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, একটু ভারী বৃষ্টি হলেই প্রতি বছর মালদা মেডিক্যাল কলেজের পুরনো ভবন চত্বরে জল জমে যাওয়া যেন এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে ট্রমা কেয়ার এবং মাতৃ-মা সহ সম্প্রতি যে নতুন ভবনগুলি নির্মিত হয়েছে, সেগুলি যথেষ্ট উঁচুতে তৈরি হওয়ার কারণে সেখানে জলের কোনো সমস্যা হয় না। তাই এই পুরনো হাসপাতাল ভবনটির অবিলম্বে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
অন্যদিকে, এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শীর্ষ আধিকারিক। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাতের দিকে অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টির ফলেই মূলত হাসপাতালের একাংশে জল জমে গিয়েছিল। তবে বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গেই নিকাশি ব্যবস্থা সক্রিয় করে জল নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে আইসোলেশন ওয়ার্ডের করিডরে কিছু জল এখনও রয়ে গেছে, যা আগামী এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ নেমে যাবে। এই জল জমার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান যে এই হাসপাতাল ভবনটি অত্যন্ত পুরনো। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে হাসপাতালের আশেপাশের এলাকাগুলি ক্রমশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই মূল ভবনে জল ঢুকে পড়ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানান যে মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে যে সমস্ত নতুন আধুনিক ভবনগুলি সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে, সেগুলিতে কোনোদিন জল ঢোকার সমস্যা হয় না। পুরনো পরিকাঠামোর এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থার কথা ভাবছে প্রশাসন।