দুর্যোগ কাটলেও শেষ হচ্ছে না দুর্ভোগ? কোন কোন জেলায় এবার চোখ রাঙাবে ভারী বৃষ্টি?

অবশেষে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে কলকাতাবাসী। অনেকটাই শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপটি ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে সরে যাওয়ায় রাজধানী সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট অনেকটাই কমেছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বিহারের ওপর অবস্থানরত এই নিম্নচাপটি ক্রমশ পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে দুর্বল হয়ে একটি ‘সুস্পষ্ট নিম্নচাপ’-এ পরিণত হচ্ছে। তবে নিম্নচাপ বাংলা থেকে সরে অন্য রাজ্যে চলে গেলেও এখনই পুরোপুরি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না রাজ্যবাসী। চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে ২৩ জেলার আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে জারি হয়েছে নতুন আপডেট।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি
মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টি কমে রোদের দেখা মেলায় দক্ষিণবঙ্গজুড়ে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কিছুটা অনুভূত হতে শুরু করেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে আর কোনো বড় দুর্যোগ বা অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আজ মূলত আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে এবং বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই কমবে।
তবে এর মাঝেই দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় রয়েছে। দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বীরভূমে ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের কিছু অংশে সাময়িক বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও বড় কোনো দুর্যোগের শঙ্কা নেই।
উত্তরবঙ্গে অব্যাহত বৃষ্টির পূর্বাভাস
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তেজ কমলেও ছবিটা সম্পূর্ণ উলটো উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে। সেখানে ওপরের দিকের জেলাগুলিতে বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং সহ বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস বইতে পারে। এই সমস্ত এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।
মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
নিম্নচাপের তীব্রতা কিছুটা কমলেও সমুদ্রের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠে ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার উপকূলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে প্রশাসন।