মুসলিম হওয়ার জন্যই কি বন্ধ পানীয় জল? কাশীপুরের বস্তির অভিযোগ ঘিরে শোরগোল

খাস কলকাতার একটি বস্তিতে দীর্ঘ দিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের দাবি, মুসলিম হওয়ার কারণেই কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনির ৫টি পানীয় জলের কলের একটি থেকেও জল আসছে না। গত জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে চলা এই তীব্র জলসঙ্কটের জেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার প্রায় ৮০০ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও দুর্ভোগের ছবি

কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের অভিযোগ, জলের লাইন বন্ধ থাকায় তাঁদের সুদূর দূরান্তে গিয়ে জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা বাবু গাজি ও আরজিনা বিবিদের ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরা মুসলিম বলেই কি এই বঞ্চনার শিকার? বোরো অফিস ও থানায় বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে গঙ্গার জলে স্নান করতে গিয়ে অনেকেরই চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। জলের অভাবে প্রবীণ ও অসুস্থদের পাশাপাশি স্কুলগামী শিশুদের পড়াশোনাও দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, জলের এই তীব্র আকাল মেটাতে বর্তমানে সিপিআইএম-এর গণসংগঠন ‘পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি’-র পক্ষ থেকে প্রতি দু’দিন অন্তর পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে, যার ফলে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি দুর্দশা কাটেনি।

পুরসভা ও বিধায়কের বক্তব্য

এই বিষয়ে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাস্তার দুটি কল নিয়ে সামান্য সমস্যা রয়েছে, তবে জলের লাইন কেটে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ফেরুল সংক্রান্ত কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জল না আসাও সম্ভব, যা দ্রুত খতিয়ে দেখে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে পুরসভা।

অন্যদিকে, । রীতেশ তিওয়ারি এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘ওখানে কারা, কোথা থেকে এসে থাকছেন, সেটা আগে দেখে দেখা উচিত। অবৈধ ভাবে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন। ওই জায়গা কলকাতা পোর্টের। তাদের জায়গা খালি করার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াইও করছে। এলাকা খালি করার জন্য আদালতের রায়ও পোর্টের পক্ষেই যায়। পোর্ট সেটা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথাও বলেছেন। প্রশাসন এলাকা খালি করতে চায়। ওখানে যাঁরা বসবাস করে তাঁরা সকলেই অবৈধ বাংলাদেশি, অনুপ্রবেশকারী। ভুয়ো কাগজপত্র বানিয়ে রেখেছে।’