মহাকুম্ভে ১ লক্ষ টাকার দুর্নীতি! আজম খানের বাড়িতে ইডির হানা নিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা অখিলেশের

সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব আজম খানের বাসভবনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র সাম্প্রতিক অভিযানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অখিলেশ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই ধরণের সুপরিকল্পিত অভিযানগুলি শুধুমাত্র শাসক দলের নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগী ও সমর্থককে সন্তুষ্ট করার রাজনৈতিক স্বার্থেই চালানো হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত একটি জোরালো পোস্টে সমাজবাদী পার্টি প্রধান বিজেপি প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে যেখানে প্রকৃত দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, ঠিক তখনই শিক্ষা-বিরোধী, শিক্ষক-বিরোধী, ছাত্র-বিরোধী এবং স্কুল বন্ধের পক্ষপাতী বিজেপি সরকার বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাতাদের হেনস্থা করতে ইডিকে ব্যবহার করছে। অখিলেশ যাদব এই প্রসঙ্গে অবকাঠামোগত দুর্নীতির বহু উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ের বেহাল দশা, পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের অসমান অংশ এবং কানপুর-লখনউ এক্সপ্রেসওয়ের বিপজ্জনক গর্তগুলির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
এছাড়াও তিনি গ্রিন করিডোরের ফাটল, নতুন ভেঙে পড়া সেতু, জরাজীর্ণ পানির ট্যাংক এবং সরকারি ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ার মতো গুরুতর নির্মাণগত ত্রুটির বিষয়গুলো জনসমক্ষে এনেছেন। রাজ্য সরকারের শাসনব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে বলে তিনি কড়া মন্তব্য করেন।
মহাকুম্ভের আয়োজন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে অখিলেশ যাদব দাবি করেছেন যে, এই মহোৎসবে ঠিকাদাররা ১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং স্মার্ট সিটি প্রকল্পগুলোতে লক্ষ কোটি টাকার দুর্নীতি ও লুটপাট চলছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান ক্ষমতাশালীরা বিশেষ এক শ্রেণির অপরাধীদের সবসময় উৎসাহ ও সুরক্ষা দিয়ে চলেছে।
নিজের টুইট বার্তায় এসপি প্রধান সরাসরি অবৈধ নির্মাণকাজে সরাসরি যুক্ত থাকা বিজেপি জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রচারের কৃত্রিম আলোর আড়ালে দুর্ব্যবহার ও নানা কটু কথা লুকিয়ে রাজ্যজুড়ে ৭০০০ কোটি টাকা বিতরণের খেলা চলছে।
অন্যদিকে, জওহর বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কালো টাকা ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই তদন্তের অংশ হিসেবেই ইডি বর্তমানে সমাজবাদী পার্টির প্রভাবশালী নেতা আজম খানের দিল্লি ও উত্তর প্রদেশ সহ মোট ১০টি ঠিকানায় একযোগে অভিযান চালাচ্ছে। তদন্তকারী দলগুলোর এই ম্যারাথন তল্লাশি দিল্লি ছাড়াও উত্তর প্রদেশের রামপুর এবং সাহারানপুর অঞ্চলেও চলছে। আজম খানের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম এবং সন্দেহজনক অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের এই অভিযান বলে জানা গেছে।