কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মার নাকি ডিজিটাল বিপ্লব? হঠাৎ কেন বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করল দেশের সেরা ১০টি বেসরকারি ব্যাংক?

ভারতের ব্যাংকিং সেক্টরে বর্তমানে এক বড়সড় পরিবর্তন এবং গভীর সংকটের চিত্র সামনে এসেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১০টি বেসরকারি ব্যাংক চলতি অর্থবর্ষে এক ধাক্কায় ১০,১১4 জন কর্মীর সংখ্যা কমিয়েছে। এর আগে বিগত বছরগুলোতেও এই ব্যাংকগুলির কর্মী সংখ্যা প্রায় ৯,৬৩৭ জন হ্রাস পেয়েছিল। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি ধীরে ধীরে মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনে সম্পূর্ণ অন্য এক কর্মসংস্কৃতির দিকে এগিয়ে চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মী কমানোর নেপথ্যে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই, আধুনিক অটোমেশন এবং নিত্যনতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি। বর্তমান যুগে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বড় একটি অংশ অনলাইন এবং এআই-চালিত চ্যাটবট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় আগের মতো বিপুল সংখ্যক মানব কর্মীর প্রয়োজন ফুরিয়ে আসছে। ব্যাংকগুলি এখন অত্যন্ত কম সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করেই তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন, গ্রাহক পরিষেবা এবং সামগ্রিক লাভজনকতা আগের তুলনায় বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে।

রিপোর্টে প্রকাশ, দেশের প্রথম সারির বেসরকারি ব্যাংকগুলির মধ্যে আইসিআইসিআই ব্যাংক, এইচডিএফসি ব্যাংক, অ্যাক্সিস ব্যাংক এবং কোটক মহিন্দ্রা ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাইয়ের হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ঐতিহ্যগত ব্যাঙ্কিং মডেলে যেখানে শাখাগুলিতে গ্রাহকদের ভিড় সামলাতে শত শত কর্মীর প্রয়োজন হতো, আজ সেখানে ডিজিটাল অ্যাপ এবং অটোমেটেড সিস্টেম সেই সমস্ত কাজ নিমিষেই সম্পন্ন করে দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের এই প্রতিযোগিতায় ব্যাঙ্কিং খাতের ব্যবসায়িক মুনাফা ফুলেফেঁপে উঠলেও এর চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে সাধারণ চাকরিপ্রার্থী ও কর্মরত তরুণ সমাজকে। আগামী দিনে যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির জয়রথ ছুটছে, তাতে প্রচলিত ব্যাঙ্কিং জব মার্কেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। ব্যাংকগুলির এই যান্ত্রিক রূপান্তর কর্মসংস্থানের বাজারে নতুন উদ্বেগের কালো মেঘ ঘনীভূত করেছে।