দুশ্চিন্তার সরাসরি প্রভাবে বাড়ে যেসব রোগ
মাত্রাতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে মন খিটখিটে হওয়া, অল্পতেই বিষণ্নতা, রাগ বা হতাশার মতো মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এর পাশাপাশি দুশ্চিন্তা যেসব রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে:
১. ওজন সম্পর্কিত রোগ: উদ্বেগ বাড়লে অনেকে ভুল খাদ্যাভ্যাস (যা খুশি খাওয়া), শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা নেশার দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর ফলে বাড়ে ওজন এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত রোগ যেমন— উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure), ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার, হৃদরোগ এবং গেঁটে বাত-এর আশঙ্কা বাড়ে। ২. হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস: মানসিক চাপের সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সরাসরি যোগ আছে। এটি অনিদ্রা ও খিটখিটে মেজাজের কারণ হয়, যা সব মিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ায়। ৩. পেটের সমস্যা: লাগাতার উদ্বেগে অম্বল, গ্যাসট্রিক, বদহজম-এর মতো সমস্যা বাড়ে। সঠিক চিকিৎসা না হলে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। ৪. হরমোন ও মস্তিষ্কের ক্ষতি: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার সময় শরীরে কর্টিসল (Cortisol) হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব পড়ে, যার পরিণতিতে স্মৃতিভ্রষ্টতা (Memory Loss) বা বুদ্ধিবৈকল্য দেখা দিতে পারে। ৫. নারীর সমস্যা: মেয়েদের ঋতুস্রাব (Menstruation) অনিয়মিত হওয়ার মূলেও উদ্বেগ-দুশ্চিন্তার হাত আছে।
উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ নিয়ম
মনোচিকিৎসকদের মতে, যখন দুশ্চিন্তা করে করোনা বা অন্য কোনো সমস্যা ঠেকানো যাবে না, তখন দুশ্চিন্তাকেই ঠেকানোর চেষ্টা করুন। সামান্য কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে মূল সমস্যা না মিটলেও আপনার উপর তার প্রভাব কম পড়বে:
‘নিউ নর্মাল’ গ্রহণ: যত তাড়াতাড়ি ‘নিউ নর্মাল জীবন’-কে মেনে নিতে পারবেন, তত ভালো থাকবেন।
আলোচনা ও যোগাযোগ: কোনো বিষয়ে বেশি দুশ্চিন্তা হলে তা খুলে বলুন। সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং হালকা গল্প-গুজব মানসিক অবসাদ কাটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
মন হালকা করার পথ: বই পড়া, গান শোনা, ঘরে বসে সিনেমা দেখা বা হালকা ব্যায়াম করা—এগুলোর যে কোনো পথ বেছে নিন। যোগাসন ও মেডিটেশন অভ্যাসেও মন হালকা হয়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্য: ওজন বেশি থাকলে বা ডায়াবেটিস থাকলে কার্বোহাইড্রেট ও মিষ্টি কম খান। রক্তচাপ বেশি হলে নোনতা খাবার ও ভাজাভুজি বাদ দিন।
পর্যাপ্ত ঘুম: ঘন ঘন চা-কফি-সফট ড্রিঙ্কস পান করে ঘুম নষ্ট করবেন না। গভীর ঘুম মন ভালো রাখার অর্ধেক ওষুধ।
চিকিৎসকের পরামর্শ: কোনো সমস্যা হচ্ছে মনে হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত ডাক্তার দেখান। চেম্বারে যেতে সমস্যা হলে অনলাইন বা ফোন করে পরামর্শ নিন।





